মেয়র জাহাঙ্গীর ও খালেক আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি: আ. লীগ

 

এইচটি ইমাম (ফাইল ছবি)গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও তালুকদার আব্দুল খালেক আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি।’ বুধবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইমাম বলেন, ‘আমি মনে করি কোনও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়নি। কারণ, গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর এখনও শপথ গ্রহণ করেননি। তিনি তো এখনও মেয়র নন। তার নামে গেজেট হলে হবে না, তাকে কার্যভার ও শপথ গ্রহণ করতে হবে। আর তালুকদার আব্দুল খালেক শপথগ্রহণ করলেও এখন কার্যভার গ্রহণ করেননি। তাই তারা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেনি।’

সরকারি কর্মকর্তারা নৌকার প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে, এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি পত্রিকায় দেখেছি। শিক্ষকদের সাচিব নামে একটি সংগঠন আছে। তারা রাজনীতি করেন স্বাধীনতার পক্ষে। তারা বিভিন্ন সময় প্রচারণায় অংশ নেন। কিন্তু তারা নির্বাচনেরর প্রচারণা অংশ নিতে পারেন না, যদি সরকারি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন। তবে এখন তো ডাক্তার আছেন, যারা সরকারি চাকরিজীবী নন। তারা কি নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন না? তাদের মধ্যে হয়তো দুই-একজন সরকারি চাকরি করেন।’

তিন সিটিতে প্রশাসন শতভাগ নিরপেক্ষ থাকবে বলে উল্লেখ করে এইচটি ইমাম বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময়ে নিরপেক্ষ থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

খুলনা ও গাজীপুরে নির্বাচন ভালো হয়েছে দাবি করে এইচটি ইমাম বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশনও বলেছে। গাজীপুরে ১১ লাখ ৩৬ হাজার ভোটার ছিল। সেখানে মাত্র ৩-৪টি জায়গা ছাড়া সব জায়গায় অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। আমাদের চেষ্টা থাকবে আসন্ন রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা যেন ওই রকম না হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচন ভালো হয়েছে। এখন আমরা বলবো, এই তিন সিটিতে আরও ভালো নির্বাচন করবো। ভালো হলে আমরা কি সেখানে থেমে থাকবো? আমরা আরও ভালো করবো।’

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ewg) বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এইচটি ইমাম বলেন, ‘ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ নির্বাচন কমিশনের কোনও গ্রহণযোগ্য গ্রুপ নয়। আমরা এই সংস্থার গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আজ কমিশনে এসেছি নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করতে কীভাবে সহায়তা করতে পারি, সেই বিষয়টি বলতে। তবে নির্বাচন কমিশনাররা বলেছেন, তারা যখন যে সহযোগিতা চাচ্ছেন, সরকার সেভাবে সাহায্য করছে। ’

তিন সিটিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগের বিষয়ে এইচটি ইমাম বলেন, ‘এগুলো বাজে কথা। এগুলো নিয়ে কান পাততে নেই। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চাই।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য র‌শিদুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ড. হাসান মাহমুদ, এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার।