রাত পোহালেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচনে বড় কোনও ঝামেলার আশঙ্কা করছে না পুলিশ। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৭৭ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশ। এসব ওয়ার্ডে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে বেশি সতর্ক থাকবে পুলিশ।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন অন্তত ১১১ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ৭২ জন। অন্যদিকে উত্তর সিটিতে ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৫টিতে আছেন ৩৯ বিদ্রোহী প্রার্থী। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ১২৯ ওয়ার্ডের মধ্যে ৭৭টিতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা মোকাবিলা করবেন বিদ্রোহী প্রার্থীদের। এলাকাগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাবও রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরবর্তীতে বিদ্রোহী প্রার্থী তালুকদার সরোয়ারকে অস্ত্রসহ আটক করে। পুলিশের আশঙ্কা এ ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তাই যেসব এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে ভোটার ছাড়া কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ কোনওভাবেই অবনতি হতে দেওয়া হবে না। যেসব ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, সেখানে গোয়েন্দা নজরদারিও বেশি থাকবে। পাশাপাশি ইউনিফর্ম পড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও থাকবেন। যেকোনও ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত। পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায় থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছে।
নির্বাচন কমিশন অফিস জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২৬টি এবং দক্ষিণে ৭২১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে পুলিশের অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, র্যাব, আনসারের পাশাপাশি বিজিবি থাকবে। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমশিনার শফিকুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে সিদ্ধেশরী স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মাঠে ত্রিশ হাজার পুলিশ থাকবে। ভোটার ছাড়া কাউকে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। ভোটার ছাড়া কাউকে পেলেই গ্রেফতার করা হবে। সে যে রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী হোক। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আমাদের নজরদারি থাকবে। কোনও রকমের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না।