নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে দলীয়ভাবেই হবে আসন্ন ইউপি নির্বাচন। এ ব্যাপারে অনড় সরকারের কর্তা-ব্যক্তিরা। অনড় প্রধানমন্ত্রীও। দলের একাধিক নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতা ও দফতরসূত্রে জানা গেছে, এই নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভেতরেও।
অন্তত চার জন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, জেলা-উপজেলা ও স্থানীয় এমপিরা দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন না করার পক্ষে। তাদের আশঙ্কা, দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হলে ‘চেইন অফ কমান্ড’ ঠিক থাকবে না। প্রার্থী ঠিক করতেও হিমশিম খেতে হবে দলকে। তাছাড়া নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত ঠেকানোও কঠিন হবে।
এমপিরা মনে করেন, যেহেতু তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঘিরে তাদের রাজনীতি, সেহেতু ইউপি নির্বাচনে একজনকে মনোনয়ন দিলে অন্যজন নাখোশ হবেন। এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাড়বে। তৃণমুল নেতাদের সঙ্গে এমপিদের দূরত্ব বাড়বে। কোথাও কোথাও এমপিদের লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেবে বলে মনে করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ বলেন, ইউপি নির্বাচন তৃণমুলের রাজনীতি নির্ভর। প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে হতে গেলে কিছু ঝামেলা পোহাতে হবে ঠিকই। কিন্তু এর জন্য আইন পরিবর্তন করা যাবে না। দলীয়ভাবেই হবে।
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে স্থানীয় এমপি ও জেলা-উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা তাদের আপত্তি জানিয়েছেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পৌরসভা নির্বাচনের পরে বেশ কিছু এমপি ইউপি নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না করতে তাকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে বিষয়টি তুলে ধরেন। সাধারণ সম্পাদক তাদের কথাবার্তা শুনলেও দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন হবে বলে জানান।
সরকারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে ইউপি নির্বাচনের ব্যাপারে কথা হয়। তারা জানান, স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে এমন আইন হয়েছে। ইতিমধ্যে পৌর নির্বাচন হয়েছে। ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার সুযোগ নেই। চাইলে সকাল-বিকাল আইন পরিবর্তন করা যায় না।
এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার সুযোগ নাই। ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ইউপি নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়া না হওয়া নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ স্থানীয় রাজনীতিতে আছে। কিন্তু এটা গ্রাহ্য হবে না।
সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহামুদ স্বপন বলেন, এ নিয়ে আমাদের দলের বিভিন্ন পর্যায়ে মতবিরোধ রয়েছে। তবে সরে আসার সুযোগ নেই। যে আইন করা হয়েছে, এখন সেখান থেকে ফিরে আসলে এর ‘স্পিরিট’ নষ্ট হবে।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহলের ধারণা, প্রথম দফায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে এমপি, স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের নেতিবাচক ধারণা সত্য হতে পারে। কিন্তু এর ভেতর দিয়ে তৃণমূলের ঝিমিয়ে পড়া রাজনীতি চাঙ্গা হবে। কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত ‘টিউনিং’ থাকবে। রাজনীতির বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে। তৃণমূল শক্তিশালী হলে কেন্দ্র শক্তিশালী হবে।
/এফএ/আপ-এনএস/