দেশের চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনও প্রার্থী ‘ছলে-বলে কৌশলে’ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে তা দলীয় ‘শৃঙ্খলাবিরোধী অপকর্ম’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এবং তাদের মদতদাতা, উসকানিদাতা নেতা-জনপ্রতিনিধিদের কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ এই নেতা বলেছেন, ‘দলীয় প্রধানের নির্দেশে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।’
সোমবার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবন এলাকাস্থ বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন, নিজেদের মধ্যে সংঘাত- সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন তাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী তৎপরতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, অপকর্ম করলে কেউ রেহাই পাবে না, শাস্তি তাদের পেতেই হবে।
‘এ দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক এবং নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি’- মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো করেই জানেন বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত এদেশে কারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, কারা ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সেটা নতুন করে বলার বিষয় নয়।’
‘বিএনপি ক্ষমতায় যেতে এবং ক্ষমতা অবৈধভাবে ধরে রাখতে সাম্প্রদায়িক শক্তির ওপর নির্ভর করে’- দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৯৯১ সালেও বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আঁতাত করে। দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির আমলে। জঙ্গি শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইরা যে উগ্রপন্থার জন্ম দিয়েছিল, তার প্রশ্রয় ও আশ্রয়দাতা ছিল বিএনপি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, অন্যদিকে বিএনপি চায় মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিকে সাথে নিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে। সাম্প্রদায়িকতাকে অস্ত্র বানায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ নয়। ক্ষমতায় যেতে বিএনপিই ধর্মকে আর সাম্প্রদায়িকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা আর ভারত বিরোধিতা তাদের কাছে রাজনৈতিক ট্রাম্পকার্ড।
বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন আর এসবে কেউ কান দেয় না, বিএনপির স্বার্থান্বেষী, ক্ষমতার রাজনীতি নতুন প্রজন্মের কাছেও স্পষ্ট।’