‘রংপুরে আ.লীগ কর্মীরা নারী প্রার্থীকে মেনে নিতে পারে নাই, অ্যাকশন নেওয়া হবে’

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরেছেন এবং জামানতও হারিয়েছেন। এত বড় ব্যবধানের হারের কারণ জানতে পদক্ষেপ নেবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, রংপুরে এই ঘটনার দুর্বলতা খুঁজে বের করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, রংপুর এরশাদ সাহেবের প্রভাবিত এলাকা। সেখানে আমাদের দলীয় প্রার্থী পিছিয়ে বলে আমরা কোনও হস্তক্ষেপ করিনি। তবে এই হেরে যাওয়ার ঘটনায় দুর্বলতা খুঁজতে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী হারলে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। তবে আমরা এমন দল নই যে চতুর্থ হবে। এই হারের কারণ খুঁজে বের করে অ্যাকশন নেওয়া হবে। আমরা যতটুকু জেনেছি, রংপুর সিটি করপোরেশনের নেতাকর্মীরা নারী প্রার্থীকে মেনে নিতে পারে নাই। তবে এটা বাংলাদেশের সব জায়গার চিত্র না। নারায়ণগঞ্জে আইভি তো  ব্যাপক ভোটে জেতে। সেখানে নারী নেত্রী মেনে নিয়েছে কর্মীরা। রংপুরে এই কালচার গড়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, আমরা সাহস করে নারী প্রার্থী দিয়েছি তাদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য। আর প্রার্থী বাছাইয়ে কোনও ভুল ছিল না। উনি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভোকেট। কোনও দুর্নাম নাই।

রসিক নির্বাচনের মতো এরকম ভরাডুবির ঘটনা জাতীয় নির্বাচনে ঘটবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রভাব পড়বে না। খেলা হবে জাতীয় নির্বাচনে।

গত ২৭ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চার লাখ ২৬ হাজার ৪৬৯ ভোটারের মধ্যে দুই লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ জন ভোট দেন। এর মধ্যে এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। আর আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ২২ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে জামানত হারান। 

আরও পড়ুন- যেসব কারণে রংপুরে আ.লীগ প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয়