অস্তিত্বের উৎস ধরে রাখতে বাঙালির বজ্রকণ্ঠ শাণিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গ্রাম-গঞ্জ ও তৃণমূলের মানুষদের একত্রিত করে বাঙালি জাতিসত্তাকে একটা জায়গায় এনেছিলেন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাইকে বাঙালি হিসাবে পরিচিত করেছিলেন। বর্তমানে স্বাধীনতাবিরোধী এবং তাদের উত্তরসূরিরা দেশে ও দেশের বাইরে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র করছে। তারা অনলাইনে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে শক্তিশালী। অস্তিত্বের উৎস ধরে রাখতে হলে বজ্রকণ্ঠ শাণিত করতে হবে। বাঙালিত্ব ধারণ করতে হবে আত্মায়, বিশ্বাসে ও চেতনায়।’
শনিবার (১১ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘অগ্নিঝরা মার্চ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বজ্রকণ্ঠ-প্রেরণায় ৭ মার্চ’ নামে অনলাইনভিত্তক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে যেমন বাঙালিত্বের আত্মপ্রকাশ হয়েছিল, ২৬ মার্চের ঘোষণায় যেমন স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল তেমনই ‘‘বজ্রকণ্ঠ-প্রেরণায় ৭ মার্চ’’ আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে সেই চেতনা ধারণ করতে হবে।’
শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর তাকে ঘিরেই ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগের ভিত্তি হলো তৃণমূল কর্মীরা। যখনই কোনও দুঃসময় এসেছে তৃণমূলকে ভর করে আওয়ামী লীগ টিকে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সম্পদ ছিল সে সময়ের সাত কোটি মানুষ, এখন শেখ হাসিনার সম্পদ দেশের সাধারণ জনগণ।’
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণে অতীতের শোষণ, করণীয় এবং সমাধানের বিষয় তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু। ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু একটি জাতির কষ্টের কথা, বাঙালির অত্যাচার-নিপীড়নের চিত্র, বিকল্প প্রস্তাবের কথা এবং বাঙালির করণীয় তুলে ধরেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, যতদিন বাঙালি থাকবে লাল সবুজের পতাকা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। পতাকার ধারক ও বাহক হিসাবে সব বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ‘বজ্রকণ্ঠ-প্রেরণায় ৭ মার্চ’ সংগঠনের সদস্যরা।