সিটি নির্বাচন

নেতাকর্মীদের দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার নির্দেশনা কাদেরের

পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে মন্ত্রী-এমপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান করছি।

শনিবার (৬ মে) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে হওয়া যৌথসভায় এমন নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের।

আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১২ জুন বরিশাল ও খুলনা এবং ২১ জুন রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রার্থিতা নিয়ে গাজীপুর, বরিশাল এবং সিলেটের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া গাজীপুরে সাময়িক বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু খেলাপি ঋণের জামিনদার হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আপিলেও তিনি মনোনয়ন ফেরত পাননি।

জনসম্পৃক্ততার অভাবে বিএনপির রাজনীতি ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপির আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির পরিকল্পনাকে ষড়যন্ত্রের রূপরেখা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কাদের বলেন, চক্রান্তের রূপরেখা তৈরি করছে এখন। সেটা রাজনীতি নয়, বাংলাদেশের বিকাশমান অর্থনীতিকে আক্রমণ করার নতুন ফন্দি আঁটছে। এখন তাদের লক্ষ্য আমাদের অর্থনীতি। যেটা করোনা পরবর্তীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের নির্বাচন মানেই হচ্ছে বিএনপিকে নির্বাচিত করার গ্যারান্টি দেওয়া। যদি নির্বাচন কমিশন তাদের ক্ষমতা দেওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারে সেটা হলো নিরপেক্ষ নির্বাচন।

বিএনপি বুঝে ফেলেছে আগামী নির্বাচনে তাদের জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই– এই দাবি করে তিনি বলেন, যেভাবে আজ বিদেশিরাও বলে শেখ হাসিনা তুমুল জনপ্রিয়। তার জনপ্রিয়তার খবর মুখে যাই বলুক তারা (বিএনপি) জানে। এ কারণে বিএনপি নির্বাচনে যেতে ভয় পাচ্ছে।

চোরাগোপ্তা চক্রান্ত করে বিএনপি সরকার হটাতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি। কাদের বলেন, এটাই হচ্ছে বিএনপির লক্ষ্য। সেই রূপরেখাই তারা করছে।

বাংলাদেশের অবৈধ দল হচ্ছে বিএনপি– এ কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অবৈধ ব্যক্তি যে দল গঠন করে ক্ষমতায় থেকে, সেই দল কি বৈধ? সেটা অবৈধ দল। তারা অবৈধ দল।

তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচন মানেই টাকা পয়সার খেলা। এখন বলছে নির্বাচন করবে না। আবার একটি পত্রিকায় দেখলাম রাষ্ট্রপতি ডাকলে আসবে। হামিদ সাহেব ডেকেছেন আসেন নাই। এখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব ডাকলে আসবেন। দেখা যাক। দেখছে তো আর কোনও পথ নাই। সব পথই খোলা রাখবে। কেন? আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত আছে না! আছে।

বিএনপি সমর্থকরা মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র মার্কা নির্বাচন। ২৪ জন দাঁড়িয়ে গেছে কাউন্সিলর পদে। মেয়র পদেও দাঁড়িয়েছে গাজীপুরে। তারা (বিএনপি) নির্বাচন করবে, কিন্তু ধানের শীর্ষ নিয়ে করবে না। তারা আজ দলীয় পরিচয় গোপন রেখে নির্বাচন করবে। কিন্তু সবাই জানে। কারা কারা বিএনপির আমরা জানি। দেশের মানুষও জানে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররাও জানে। পরিচয় গোপন রেখে যতই ঘোমটা পড়েন, মানুষ কিন্তু জানে আপনারা নির্বাচন করছেন। জাতীয় নির্বাচনেও এই খেলা হবে কিনা সেই ভাবা মুশকিল। বিএনপির নির্বাচন মানেই মনোনয়ন বাণিজ্য। গত নির্বাচনে দেখেছি। এবারও দেখার অপেক্ষায় আছি।

যৌথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, ফরিদুন্নাহার লাইলী, দেলোয়ার হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আব্দুল আউয়াল শামীম, সায়েম খান প্রমুখ।