তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির উদ্দেশ্য হচ্ছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করা, ধূলিস্যাৎ করা। ২০১৪ সালে তারা সেই অপচেষ্টা করেছিল, ২০১৮ সালে নির্বাচনে গিয়েও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। এখন সেই অপচেষ্টা চালালে দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।’
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
‘যেদিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সেদিনই হবে এ সরকারের অন্তিম যাত্রা’— সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের তফসিল বা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সে অনুযায়ী নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছি।’
‘বিএনপি নেতারা নির্বাচন বর্জন করতে পারে, যে কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচন বর্জনের বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার আছে’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি যেটি মনে করি, বিএনপি যদি একটি দায়িত্বশীল দল হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। কারণ গণতন্ত্রকে সংহত করা শুধু সরকারি দলের দায়িত্ব নয়। গণতন্ত্রকে সংহত করা, গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে অব্যাহত রাখা— সেটি সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। এরপরও যে কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করার অধিকার রাখে। তাই বলে নির্বাচন প্রতিহত করার অপচেষ্টা চালানো হলে দেশের মানুষ সেটি কঠোর হস্তে দমন করবে।’
সিঙ্গাপুরে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বৈঠকের গুঞ্জন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি এটি দেখেছি। কিন্তু মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, সেটি অসত্য। তার বক্তব্যকেই আমি সত্য ধরে নিচ্ছি।’
নির্বাচনে পররাষ্ট্রনীতির প্রভাব আছে কিনা— এ প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী হাছান বলেন, ‘নির্বাচন হয় দেশে, ভোট দেয় দেশের জনগণ। এটা পররাষ্ট্রনীতির বিষয় না। আর পররাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আমরা বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’