প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবো না, প্রতিরোধ গড়ে তুলবো: ছাত্রলীগ সভাপতি

ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপি দেশের মানুষের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তারা অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর উত্তরসূরি বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে তাণ্ডব চালিয়েছে। দেশের মানুষের জানমাল নিয়ে অনেক ছেলে খেলা দেখেছি। তাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হতে দেখেছি। আমরা শুধু প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবো না, প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। তাদের পরাজয় নিশ্চিত করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ করবো।’

রবিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের শত্রু। আর বর্তমানে বিএনপি-জামায়াত দেশের গণতন্ত্র নিয়ে যেভাবে তামাশা করছে, দেশকে বিদেশের কাছে মুক্তহস্তে দান করতে চাচ্ছে, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট, তারা বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্রের ব্যবসায়ী। তারা গণতন্ত্র নিয়ে ব্যবসা করছে।’

বিএনপি প্রহসনের নামে হরতাল ডেকেছে উল্লেখ করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘যারা দেশের জনগণের জানমাল নিয়ে জুলুম করছে; তারা পুলিশ, সাধারণ মানুষসহ সাংবাদিকদের পিটিয়েছে। এই নারকীয় তাণ্ডবে জনতার সামনে তাদের আসল মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।’

আগামী দিনগুলোতে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। অতীতেও গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি। আমরা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।’

সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, ‘বিএনপি নামে দলটি যুগ-যুগান্তর ধরে বাংলার মানুষকে শোষণ করে চলেছে। কিন্তু এবার মানুষ গর্জে উঠেছে। বাংলার ছাত্র-জনতা ফুঁসে উঠেছে। আজকে হরতালের নামে তারা অপ্রীতিকর অবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশের জনগণ অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। হরতাল থাকলেও রাস্তায় সবকিছু চলছে। কেউ হরতাল মানছে না। জনগণও বোঝে, আমাদের পেছনে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

এ সময় ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, ‘বিএনপির ডাকা এই হরতাল একটি প্রহসনের হরতাল। এই শহরে দোকান-পাট বন্ধ হয়নি। সব খোলা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির এই হরতালে ঢাকা আগের থেকে বেশি সচল রয়েছে। ঢাকার চির চেনা সেই জ্যাম রয়েছে আগের মতোই।’

এ সময় ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘সরকার পতনের লক্ষ্যে ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট করে, আগুন সন্ত্রাস করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে বিএনপি যে তাণ্ডব চালিয়েছে সেটিকে সাধারণ জনগণ বয়কট করেছে। বিএনপির ছলচাতুরী এখন মানুষ বুঝতে পেরেছে। ২৮ তারিখের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ আর পুলিশের ধাওয়ায় তারা পুনরায় গর্তে ঢুকেছে।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন– ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজীবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড। এছাড়াও সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।