নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ উন্নয়নকে সমর্থন করেছে। ৭ জানুয়ারির ভোটে সেটা প্রতিফলিত হয়েছে। শেখ হাসিনার রাজনীতি মানুষ গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশকে টেনে ধরার জন্য অপরাজনীতি করা হয়। সেটা নিকট অতীতে দেখেছি। বাংলাদেশের নির্বাচন, সংসদ, দেশের আইন, নির্বাহী বিভাগ কোনও কিছু মানছে না, সংবিধান মানছে না। বাংলাদেশকে তলিয়ে দেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল। কিন্তু তারা অন্ধকারে তলিয়ে গেছে। এই নির্বাচন নিয়ে (দ্বাদশ নির্বাচন) কত অপকর্ম, কত ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। অথচ আমরা দেখলাম, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণের অভুতপূর্ব অংশগ্রহণ। তারা বলেছিল, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। নির্বাচন হবে না, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা সামনের দিকে যাবে না। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে, যারা নৌকা মার্কার বাইরে নির্বাচিত হয়েছেন— তারাও শেখ হাসিনার কথা বলে, স্লোগান দিয়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চেয়েছিল বিএনপি, লন্ডনে বসে তারেক রহমান। কিন্তু বাংলাদেশের পথকে বিচ্যুত করতে পারেনি। দেশের ১৬ কোটি মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে, ঐক্যবন্ধ থাকবে। এ সংসদ আগামীতে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বে।’
‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধ্রুবতারা’, মন্তব্য করে খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারের হত্যার পরে বাংলাদেশের মানুষ যখন দিশেহারা, সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের যাঁতাকলে পিষ্ট, আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি যখন বন্দি— সেসময় ১৯৮১ সালের ১৭ মে ধ্রুবতারা হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকে পথচালা, তার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ। তার প্রতিধ্বনি হয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্যে।’
সরকারি দলের হুইপ সাইমুম সারওয়ার বলেন, ‘মিয়ানমার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত। সেখানে বিপ্লবীরা যুদ্ধ করছে।’ তিনি বলেন, ‘সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রে যারা আছেন— তাদের কাছে আমার বিণীত অনুরোধ থাকবে, বাংলাদেশের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে, আসুন আপনারা শিক্ষা নিন। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে, রক্তাক্ত অধ্যায় বন্ধ হয়েছে, সেভাবে আপনারা বন্ধ করুন। আপনারা প্রয়োজনে ফেডারেল গভর্নমেন্ট সৃষ্টি করুন।’
তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড লু বলেছেন, মিয়ানমারের যুদ্ধ দীর্ঘ হতে পারে। এই যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সার্ক অকার্যকর হয়ে আছে। আমাদের নতুন করে ন্যাটোর মতো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ নিয়ে নতুন করে আমাদের একটি নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিদ্রোহীদের হাতে মাইন চলে গেছে। যেকোনও সময় মাইন চলে আসতে পারে।’