জানা গেছে, বুধবার দুপুর একটার দিকে কাওরানবাজার প্রগতি টাওয়ারের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত। তেজগাঁও বিএনপির আনোয়ার উজ্জামান আনোয়ার ও লুৎফুর রহমানসহ (এল রহমান) ৪০-৫০ জন নেতাকর্মীরা হঠাৎ গরিব মানুষদের দেওয়ার জন্য রাখা ২০টি পাতিল তেহারি নিয়ে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ৩৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দেড়টার দিকে খালেদা জিয়া এসে খাবারগুলো গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই আনোয়ার ও লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে কিছু কর্মী-সমর্থক খাবারের ডেগচি নিয়ে যান।
থানা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী নবী সুলায়মান দাবি করেন, তাকে থানা বিএনপির সভাপতি হতে দেখতে চান না, এমন কিছু লোকই তার উদ্যোগে তৈরি তেহারির ডেগচি নিয়ে তাকে হয়রানি করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি ওইখানে ছিলাম। আমার লোকজনদের নিষেধ করেছি বাধা দিতে। বাধা দিলেই জামেলা হতো। ম্যাডাম কষ্ট পেতেন। তার দাবি, আনোয়ার ও লুৎফুর দুজনেই স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বুধবার সন্ধ্যার আগে-পরে একাধিকবার এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে দুজনের নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবারও রাজধানীতে দুস্থদের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার বেলা পৌনে ১২ টায় মহাখালী কমিউনিটি সেন্টার (ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি) থেকে তিনি খাবার বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে সাতরাস্তা, এফডিসি গেট, কাওরান বাজার, শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড, ন্যাশনাল বাংলা স্কুল (মিরপুর-২), শাহ আলী মাজার, অনিক প্লাজা (পল্লবী), খিলক্ষেত নিকুঞ্জ, আমির কমপ্লেক্স (দক্ষিণখান), নতুন বাজার (ভাটারা), মধ্যবাড্ডার মোল্লাপাড়া এবং রামপুরার আল আমিন মার্কেটের সামনে দুস্থদের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে বিকেল ৫টা ২০মিনিটে এই কর্মসূচি শেষ করলেন খালেদা জিয়া।
গত সোমবার (৩০ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের টিঅ্যান্ডটি মাঠ থেকে খাবার বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেন খালেদা জিয়া।
কর্মসূচির প্রথমদিন রাজধানীর ৩১ স্পটে দুস্থদের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করেন তিনি। বাংলামোটর এলাকায় খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ করেন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে খিলগাঁও জোড়পুকুর মাঠ থেকে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। রাজধানীর নয়টি স্পটে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন তিনি। বিকেল ৩টায় শ্যামপুর ঈদগাহ মাঠে (লাল মসজিদ) খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শেষ করেন খালেদা জিয়া।
কারওয়ানবাজারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদলের একটি ইউনিটের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা জানান, তেহারি লুটপাটকারীরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহাবুদ্দীনসহ বিএনপির পোস্টারও ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। এই নেতার দাবি, একই সময়ে প্রথম আলোর পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের আয়োজনে গরিবদের তেহারি বিলান খালেদা জিয়া।
এ ঘটনায় বিএনপির মহানগর পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের কাছে বিচার চাওয়া হয়েছে বলে জানান নবী সুলায়মান। তিনি বলেন, আমি বলেছি, দেখি, তারা কী করেন।
জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক-বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি কনসার্ন নই। কিছু বলতে চাই না।
আরও পড়তে পারেন: বাজেট বাড়লেও ৮ বছর ধরে কমছে বেসরকারি বিনিয়োগ
/এমএনএইচ/