সাঁড়াশি অভিযানের নামে বিরোধী দলের কর্মীদের আটক করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল






মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসাঁড়াশি অভিযানের নামে অল্পবয়সী ছেলে, সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গুপ্ত হত্যার ছুতো ধরে বিরোধী ও ভিন্নমত যারা পোষণ করেন, তাদের ওপর নির্যাতন নেমে আসছে। শুক্রবার পল্টনের একটি হোটেলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে খেলাফত মজলিস আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভোটের অধিকার, রাজনীতির অধিকার কোনও-কোনও ক্ষেত্রে ধর্ম পালনের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। দেশে কিছু দিন যাবৎ রহস্যজনক গুপ্ত হত্যা শুরু হয়েছে। একদিকে যারা ধর্মে বিশ্বাস করে না তাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে অন্য দিকে যারা ধর্মে বিশ্বাসী যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান ধর্মাবলম্বীদেরও হত্যা করা হচ্ছে। সরকার এ ক্ষেত্রে হত্যা বন্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিটি মানুষ আতঙ্কে কাটাচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, কিছুদিন পর তাদের বন্দুক যুদ্ধে কথা বলে নিহত করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ একটি আবদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে। ধর্মপালনের অধিকারও হারাচ্ছে মানুষ। এ সরকার বিরোধী পক্ষ রাখতে চায় না। তারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, জালিম শাসকদের সামনে হক কথা বলা হচ্ছে সবচেয়ে বড় জিহাদ। আজকে হামলা-মামলা আর নির্যাতনের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এই মহান মাসেও ঘরে থাকতে পারছেন না। আজ রোজাকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা’র সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এনপিপি’র চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিএমএল’র সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিপি’র চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল করিম, যুগ্মমহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সদস্যসচিব মাওলানা ফজলুল করিম, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটিক লীগ ডিএল’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমদ মনি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহম্মদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আবদুল লতিফ মাসুম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, দি নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার প্রমুখ।

আরও পড়তে পারেন: প্রাণহানির ইউপি নির্বাচনে ইমেজ ক্ষুণ্ন সরকারের


/সিএ/এমএনএইচ/