সুস্থ করে খালেদা জিয়ার বিচার করেন: খন্দকার মোশাররফ


আলোচনা সভায় খন্দকার মোশাররফবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। তিনি সুস্থ হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার বিচার করেন।’

শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমাদের সংবিধান ও সিআরপিসিতে আছে, একজন আসামির বিচার করতে হলে সুস্থ অবস্থায় তার বিচার করতে হবে। আদালতে কেন নেওয়া হয়, শুনানির জন্য। এটার জন্য তো তার সুস্থ থাকা প্রয়োজন। একজন ব্যক্তি সুস্থ না হলে তাকে আদালতে নিয়ে বিচার করার উপায় নেই। তাই খালেদা জিয়াকে সুস্থ করাই এখন প্রধান ও প্রথম দায়িত্ব। আজকে সরকার সেই দায়িত্ব পালন করছে না। ষড়যন্ত্র করে দিনের পর দিন চিকিৎসা না করায় তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। আমরা আগেও বলেছি, তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হোক।’
বর্তমান সংসদ জনগণের সংসদ নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘আজকে জনগণ একটি বিষয়ে একমত, এই নির্বাচন কমিশন বিগত নির্বাচনগুলো, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব মত বলে কিছু নেই। তাদের বক্তব্য আজকে সরকারের কর্তারা রাখেন। সেজন্য জনগণের দাবি এই নির্বাচন কমিশনেরও মেরামত দরকার। জনগণ নির্বাচনের সময় সামরিক বাহিনী মোতায়েন চায়। এসব বিষয়ে আজকে সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। জনগণের পাশাপাশি আজকে ২০ দল, যুক্তফ্রন্টের বি চৌধুরী, ঐক্য প্রক্রিয়ার ড. কামাল হোসেন, আ স ম রব, মান্না, কাদের সিদ্দিকী, এমনকি চরমোনাইর পীর সাহেবও বলেছেন আগামী নির্বাচন সংসদ ভেঙে করতে হবে। আগামী নির্বাচনের তফসিলের আগে দেশে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। তাছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’
আওয়ামী লীগকে ছাড়া জাতীয় ঐক্য কী, ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে এই স্বৈরাচারী সরকারের অবসানের ইস্যুতে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে। আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি এই গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য ঐক্য। এখন যাদের বিরুদ্ধে ঐক্য তাদের সঙ্গে নিতে হবে? হাস্যকর যুক্তি! যারা অতীতে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, গণতন্ত্র হত্যা করেছিল, যাদের হাতে বন্দি গণতন্ত্র, তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র উদ্ধারের কথা বলছি, আর তাদের নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো, এরচেয়ে হাস্যকর কথা আর কিছু হয় না।’
কারাগারে বিচারিক আদালত স্থানান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বলেছি এটা সাংবিধানিক না। আমাদের সংবিধানে ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে পরিষ্কার করে লেখা আছে, এ ধরনের বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। কারাগারের ভেতরে কীভাবে প্রকাশ্যে বিচার হবে? যে কারাগারে একটি বিরাট দেয়াল আছে এবং একটা গেট আছে, যে গেটের ভেতরে শুধু বন্দি ঢোকানো হয়, আর যদি কেউ বিশেষভাবে যায় তাকে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হয়। তাহলে এটা কীভাবে প্রকাশ্যে বিচার হলো? আমাদের সিআরপিসি’র ৩৫২ ধারায় লেখা আছে, এটাকে ওপেন কোর্ট হতে হবে। কারাগারের গেট বন্ধ থাকলে এটা ওপেন কোর্ট কীভাবে হয়? এটা সংবিধান বিরোধী। যখন সংবিধান নিয়ে কিছু বলতে পারছেন না তখন জাতিকে বিভ্রান্ত করতে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘এই কোর্টের দরজা খোলা থাকে।’ তারা এও বলেছেন, জিয়াউর রহমান এখানে বিচার করেছেন। এখন জিয়াউর রহমানকে এনে উনি এটাকে জাস্টিফাই করতে চান। তাহলে মনে হয় এতদিনে জিয়াউর রহমানের প্রশংসা শুরু করেছেন। যে সময় ওই বিচারটি হয়েছিল কর্নেল তাহেরের বিরুদ্ধে, সেটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা এবং সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ করার জন্য। সেই বিচার করেছিল সেনাবাহিনী। আর সেই বিচার ছিল মার্শাল ল‘ সরকারের অধীনে। দেশে সামরিক সরকার থাকলে সংবিধান থাকে না। সেই সময় মামলাটি পরিচালনা হয়েছে কারাগারের গেটের বাইরে সামরিক আদালত এবং সামরিক আইনের অধীনে। কিন্তু বর্তমানে দেশে সাংবিধানিক শাসন আছে। তাই মার্শাল ল’র সময়ের সঙ্গে এটাকে এক করে যৌক্তিক করা যাবে না। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এটা তারা করছে।”
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহসহ অনেকে।