শনিবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে বিএনপিকে দূরে রাখার জন্য সরকার যত ধরনের কূটকৌশল আছে তা প্রয়োগ করছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে গায়েবি মামলা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৯টি। এসব মামলায় এজাহারে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৯২ জনকে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৭ জনকে। সব মিলিয়ে আসামির সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৯ জন। এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৪ জনকে। রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে ২৭৪ জনকে।’
তিন বলেন, সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি যেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। আমাদের সিনিয়র নেতাদের নামে যেসব মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে তা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে সরকার। যাতে তাদেরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যায়। আমাদের দলীয় প্রধানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে সরকার। অথচ সরকারপ্রধান ও আওয়ামীলীগের নেতারা দেশে বিদেশে বলছেন নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে।’
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘গায়েবি মামলার বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করার চিন্তা করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান বা যারা এই মামলা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এই বিষয়ে আমরা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করবো।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৯০ হাজার ৩৪০টি মামলা করেছে সরকার। এসব মামলার মোট আসামির সংখ্যা ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জন। ২০০৯ সাল থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৫১২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৭৮২ জনকে হত্যা করেছে বলেও দাবি করা হয়। বিএনপির ৭২ জন নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গায়েবি মামলাগুলো হাস্যকর ব্যাপার। অদ্ভুত কাণ্ড সরকারের একবারও বোধোদয় হচ্ছে না যে, এটা করে তারা সবাইকে বিপদে ফেলছেন। এই কাজগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত, যারা এই মামলাগুলো করছেন, ভবিষ্যতে যদি এটাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা যায়, তারা সবাই বিপদে পড়বেন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, 'এইভাবে গায়েবি মামলা দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির নেই।'
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল।