টিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নেই: ড. মোশাররফ

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “যত টিকা লাগে কেনা হবে”। কিন্তু কোথা থেকে ক্রয় করা হবে, কবে নাগাদ ক্রয় করা হবে তার সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেননি।’ সোমবার (৫ জুলাই) বিএনপির ‘করোনার ভাকসিন সংগ্রহ-বিতরণ-পর্যবেক্ষণণ সংক্রান্ত কমিটি’র ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মোশাররফ বলেন, ‘কোভিড-১৯ অতিমারির শুরু থেকে সরকারের রাখঢাক, সমন্বয়হীনতা, অতিকথন ও দুর্নীতি জনগণকে হতাশ করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে। সরকার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।’

সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীরা প্রথম থেকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে দাবি করেন মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন,  ‘তারা বলেছেন, করোনা সংক্রমিত হবে না, কিন্তু হয়েছে। তারপর বলেছেন, সব চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। দেশের জনগণের কাছে পরিষ্কার যে, সরকার তাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে করোনা সংক্রামণ মোকাবিলায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর হটলাইনে চিকিৎসাসেবা, বিভিন্ন হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান, সীমান্তবর্তী জেলাসমূহের হাসপাতালে রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার, হাইফ্লো-নেজাল ক্যানোলা সরবারহ, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার কার্য্ক্রম তুলে ধরেন খন্দকার মোশাররফ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ‘আজকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো কী দুরবস্থা? ৩৬টি জেলায় আইসিইউ বেড নেই। সাতক্ষীরা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বলেন, রাজশাহীর বলেন—প্রত্যেক জায়গায় হাসপাতালের চরম খারাপ অবস্থা। বগুড়ায় ১২ ঘণ্টায় ৭ জন রোগী মারা গেছেন অক্সিজেনের অভাবে, ঠিক একইভাবে মারা গেছেন সাতক্ষীরায়। এটাই হচ্ছে প্রকৃত চিত্র। এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী সরকারি অব্যবস্থাপনা।’

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে চীনের সাইনোভেট কোম্পানি তার ভ্যাকসিন ট্রায়াল করার জন্য অনুমতি চেয়েছিল। আইসিডিডিআরবি,র সঙ্গে সব কিছু সম্পন্ন হয়েও গিয়েছিল। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আমরা দেখলাম, সেই ট্রায়াল থেকে বাংলাদেশ সরে গিয়েছে।’