অসুস্থ খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব সরকারের প্রতি এ দাবি জানান।
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন কয়েকশ’ নেতাকর্মী।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে যখন তিনি অসুস্থ অবস্থায় (খালেদা জিয়া) হাসপাতালে, তখন আমরা পত্রিকায় দেখছি, পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও আবেদন করা হয়েছে। আমরা সরকারে কাছে আহ্বান জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক।’
‘আজকে আমরা বলতে চাই, আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। দয়া করে আপনারা মানবতার স্বার্থে খালেদা জিয়াকে বাইরে চিকিৎসার সুযোগ করে দেন। যেটা তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,’—বলেন বিএনপি মহাসচিব।
একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘এই নেত্রী (খালেদা জিয়া) গণতন্ত্রের নেত্রী এবং তার যদি কিছু হয়ে যায় সব দায়-দায়িত্ব কিন্তু এই সরকারকে বহন করতে হবে। এ কথা খুব পরিষ্কার।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ দেশের ডাক্তার সাহেবরা ইতোমধ্যে বলেছেন, তার চিকিৎসা হচ্ছে অনেক ধরনের অসুখের। এই অসুখগুলোর যদি সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু চিকিৎসা করাতে হয়, তাহলে দেশে সে ধরনের মেডিক্যাল সেন্টার বা হাসপাতাল নেই।’
তিনি বলেন, ‘এ জন্য বার বার তাকে বলা হয়েছে এবং তার পরিবার থেকে আবেদন করা হয়েছে, অন্তত মানবতার স্বার্থে তাকে বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক। আমরা এ বিষয়ে বার বার করে বলেছি। কিন্তু তাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন আছেন। গত ১৩ নভেম্বর তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়।
৭৬ বছর বয়েসী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিচারের প্রহসনে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আজকে কারান্তরীণ খালেদা জিয়া। আওয়ামী সরকারের বিরাজনীতিকরণের যে নীতি, ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার যে চক্রান্ত; সেই চক্রান্তের একটা অংশ হিসেবে আজকে তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।’
‘আমরা জানি, ম্যাডাম জিয়াকে কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত গৃহে অন্তরীণ করে রেখেছিল প্রায় আড়াই বছর। সে সময়ে তার কোনেও চিকিৎসা হয়নি। জনগণের চাপে পড়ে তাকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসলো। এরপর করোনা আক্রান্ত হলে ভীত হয়ে তাকে বাসায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো’,—বলেন বিএনপি মহাসচিব।
খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যে নেত্রী সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য উৎসর্গ করেছেন, এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন; সেই নেত্রী আজকে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় সিসিইউতে আছেন। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, অনেক বেশি অসুস্থ। আমি ঠিক আপনাদের বলে বোঝাতে পারবো না যে, গতকাল তিনি প্রথম সিসিইউতে তার বেড থেকে চেয়ারে বসেছেন এবং অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় আছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি, তিনি যেন তাকে সুস্থ করেন; শুধু বিএনপির জন্য নয়, তার পরিবারের জন্য নয়, এ দেশের ১৬ কোটি স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য। তিনি সেই নেত্রী, যিনি হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সারাটা জীবন ধরেই সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন।’