নতুন নির্বাচন কমিশনের সবাই সরকারের সুবিধাভোগী: বিএনপি

সদ্য ঘোষিত নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই বিএনপির। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, যে পাঁচ জনকে নতুন কমিশনের দায়িত্বে আনা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই গত ১০ বছরে সরকারের সুবিধাভোগী, প্রিয়ভাজন। ফলে তাদের কাছ থেকে সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করা বোকামি। বরং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রথম শর্ত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। 

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন।

শনিবার সন্ধ্যায় কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন সিইসি বা কমিশনার কারা হলেন এটা নিয়ে আমাদের কোনও আগ্রহই নেই। এটা নিয়ে আমরা কোনও কথাই বলতে চাই না। আমাদের মূল কথা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে কোনও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দাবি, বিএনপি নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্যে আগ্রহী নয়। তার মন্তব্য, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সুষ্ঠু  নির্বাচন হওয়ার কোনও সম্ভাবনাও নেই। যাদেরকে কমিশনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা প্রত্যেকেই গত দশ বছর ধরে সরকারের সুবিধাভোগী। তারা সরকারের প্রিয়ভাজন’।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যকে কমিশনে আনা হয়েছে। একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যিনি নির্বাচন ম্যানিপুলেট করেছেন। ফলে তাদের অধীনে নির্বাচন হওয়ার কোনও মানে হয় না।’

সাংবাদিকদের কাছে মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না তা তো ২০১৪ সালের নির্বাচন বলুন, ২০১৮ সালের নির্বাচন বলুন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বলুন- এই সবগুলোতে প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন তাদের আজ্ঞাবহ হয়, তাদের অনুগত হয়ে কাজ করে। তাই সরকারে আওয়ামী লীগ থাকলে সেখানে নির্বাচন কোনোভাবেই নিরপেক্ষ হবে না-এটাই ইউনিভার্সাল ট্রুথ।

তার জোর মত, আমাদের দলের অবস্থান পরিষ্কার- নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। কোনও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপি যাবে না।