বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এত বাধা বিপত্তি, এত গ্রেফতারের পরও আমাদের সমাবেশ গণসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে সরকার মনে করেছিল তারা আমাদের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ ব্যর্থ করে দেবে। কিন্তু তা করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তি ১০ ডিসেম্বর জয়ী হয়েছে। সরকার পরাজয় বরণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে এখানে আমরা প্রতিবাদ করতে এসেছি। আমাদের কেন্দ্রীয় অফিসে ৭ ডিসেম্বর যে বর্বর হামলা হয়েছে তা নজিরবিহীন। অফিসে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। অফিসের সব কিছু নিয়ে গেছে। এর নিন্দা করার ভাষা আমাদের নেই।’
বিএনপির সমাবেশে শুধু দলীয় নেতাকর্মীরা আসেনি, সাধারণ জনগণও এসেছে মন্তব্য করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘জনগণ এসে আমাদের সমাবেশ সফল করেছে। সাধারণ জনগণ এই সমাবেশগুলোর মধ্য দিয়ে বার্তা দিয়েছে– এই সরকারের হাত থেকে জনগণ মুক্তি চায়। আর এই মুক্তি দিতে হলে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেই লক্ষ্যে ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ থেকে ১০ দফা দাবি জানিয়েছি।’
আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব নয় জানিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘যারা অর্থনীতিকে নষ্ট করেছে তাদের দিয়ে অর্থনীতিকে ঠিক করা সম্ভব না। তারা বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দিয়েছে। আইন বিভাগকে তারা নিরেপক্ষ করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য, গায়ের জোরে টিকে থাকার জন্য অন্যায়ভাবে নির্দেশ দিয়ে এ দেশের জনগণের ওপর লেলিয়ে দিয়েছে। এত কিছুর পরও বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলকে দুর্বল করতে পারেনি। যদি দুর্বল হতো তাহলে ১০টি সমাবেশ সফল করতে পারতাম না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন রাজপথে ফয়সালা হবে। এই রাজপথে ফয়সালা করার জন্য, এই ব্যর্থ সরকারকে পতন ঘটানোর জন্য আপনারা রাজপথে প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। এছাড়া আমাদের বিকল্প নেই।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের পুলিশ বাহিনীকে বলতে চাই, আপনারা জনগণের শত্রু নন। আপনারা শপথ নিয়েছেন এ দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আপনারা জনগণের শত্রু না। পুলিশকে স্মরণ করে দিতে চাই। আপনারা কোনও দলীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না। আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী।’
প্রতিবাদ সমাবেশ বিএনপির ঢাক উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, রহুল কবির রিজভীসহ আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে ভেবেছিল আমাদের সমাবেশ নষ্ট করবেন। আওয়ামী নেতাদের বলতে চাই, মনে রাখবেন বিএনপি ভেসে আছে আসেনি। বিএনপি রাজপথ আছে। রাজপথে থাকবে। আমাদের নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছে। প্রয়োজনে আরও দেবে। শেখ হাসিনার নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না।’
প্রতিবাদ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ও জাতীয় নেতারা।