এই অবৈধ সরকারকে বিদায় দিতে হবে: খন্দকার মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সারা দেশের মানুষ একটি আওয়াজ তুলেছে, একটাই তাদের দাবি, এই অবৈধ সরকারের হাত থেকে দেশেকে ও জনগণকে রক্ষা করতে হবে। এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে’।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক আহ্বায়ক সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনকে নিয়ে ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই সরকারকে বিদায় দেওয়ার লক্ষেই আমরা ১০ দফা দিয়েছি। ১০ দফা পর্যালোচনা করলে দেখবেন যে, সার কথা হচ্ছে যে এই সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব বিদায় দেওয়া।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ কেন এই সরকারকে বিদায় দিতে চাচ্ছে, কারণ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র হত্যা করেছে। গত ১২ বছর দিনের ভোট রাতে করে এই সরকার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। গণতন্ত্র হত্যা করার কারণে তাদের কারও প্রতি দায়দায়িত্ব নেই। যারা আইনের শাসন দলীয়করণ করে ধ্বংস করেছে, তারা এইগুলো মেরামত করতে পারবে না। এক লাখ মামলায় দেশের প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ আসামি। মরহুম খন্দকার মাহবুব হোসেনও একাধিক মামলার আসামি। এ সরকারের সময় ৬০০ মানুষ গুম হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। এজন্য র‍্যাব-পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’

সাবেক স্পিকার ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘যে সরকার ক্ষমতায় আছে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। আমাদের এখন দেশ আছে। জনগণ আছে। কিন্তু গণতন্ত্র নেই। আইনের শাসন নেই। দেশে সার্বভৌমত্ব নেই।’
 
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘খন্দকার মাহবুব হোসেন আইন জগতের দিকপাল ছিলেন। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন, চার বার সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হন। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আইন ও রাজনৈতিক জগতে খন্দকার মাহবুব হোসেনের চলে যাওয়া আমাদের খুবই ক্ষতি হয়েছে। উনার সাহসিকতার যে প্রতিভা আজকের দিনে আমাদের খুবই বেশি প্রয়োজন ছিল। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক আদালতে আদেশ দেওয়ার ১৮ মাস পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার মামলার রায় পাল্টানো আমাদের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ভোটের অধিকার ধ্বংস করেছে।’

এ বিষয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরীর লেখা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ক্রিমিনাল অ্যাক্ট। এরপরও সেই অর্থে আইন জগতে কোনো ঝড় দেখিনি। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাকে যেভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়, এরপর কি বিচারকরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেন। এরপরও বিচার অঙ্গনে কোনো ঝড় উঠতে দেখিনি’।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ‘১০ দফা বা ১২ দফা নয়, এখন দরকার এক দফা। একটি অবৈধ অনির্বাচিত সরকারকে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করতে হবে। এজন্য জনগণের সঙ্গে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিতে হবে। সরকারকে বলতে হবে, আপনারা নির্বাচিত নন, আপনারা বিদায় নেন। আমাদের গণতন্ত্র চর্চার দারুণ অভাব আছে। আইনজীবীদের চিন্তা করতে হবে, গণতন্ত্রের জন্য কি কি প্রয়োজন। পুলিশ দিয়ে রাজনীতি করা, এটা পাকিস্তানেও ছিল না। রাজনীতির প্রথম অর্থ হলো নিঃস্বার্থ হতে হবে। আপনি রাজনীতি করে বড়লোক হবেন, কোটিপতি হবেন। এটা রাজনীতি নয়’।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে এবং ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন- সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বর্তমান সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, আইনজীবী ফজলুর রহমান, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নুরুল আমিন বেপারী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি-এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব ও বাংলাদেশ পিপল্স লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গরীব নেওয়াজ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে খন্দকার মাহবুব হোসেনের স্ত্রী ড. ফারহাত হোসেন, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি আবদুল জব্বার ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজলসহ প্রমুখ আইনজীবী অংশ নেন।