৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে শূন্যতা

বিএনপির এই প্রথম কোনও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের জ্যেষ্ঠ তিন নেতার মধ্যে তিনজনই ছিলেন অনুপস্থিত। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আছেন সিঙ্গাপুরে।

শীর্ষ নেতৃত্বের এই অনুপস্থিতির সঙ্গে স্থায়ী কমিটির অন্তত আরও পাঁচ সদস্য ছিলেন অনুপস্থিত, যাদের কেউ কেউ বিদেশে চিকিৎসার কাজে, কেউ অসুস্থ হয়ে বিছানায় শায়িত। এই পরিস্থিতিতে দলের ইতিহাসে এই প্রথম এত বেশি সংখ্যক নেতার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে বিএনপি। যে কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা ছিল শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর)।

দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৬ দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সময় তিনি লন্ডনে ছিলেন। দেশে ফেরার পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের মামলায় ফরমায়েশি রায়ে কারাগারে আছেন’ তিনি। বর্তমানে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে বাসায় থেকে বসুন্ধরা এলাকায় এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ৯ আগস্ট ভর্তি হয়েছেন সেখানে। আজ ২৩ দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

বিএনপির বিভিন্ন স্তরে কথা বলে জানা গেছে, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি থাকলেও, সব সময় দলের মহাসচিব উপস্থিত থেকেছেন। এবারই প্রথম কোনও মহাসচিব দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সময় দেশের বাইরে আছেন।

র‌্যালিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশ নেন। তবে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শূন্যতা ছিল

দলের কোনও কোনও নেতা উল্লেখ করেন, পূর্বনির্ধারিত চিকিৎসকের শিডিউলের কারণেই এবার অনুপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ও তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই সিঙ্গাপুরে যেতে হয়েছে।

শায়রুল কবির খান আরও জানান, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মহাসচিব সব সময় থাকেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্ত্রীসহ গত ২৪ আগস্ট থেকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আছেন। আগামীকাল শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) তার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার অনুষ্ঠিত র‌্যালিতে সিনিয়র কয়েকজন নেতা নেতৃত্ব দেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোডাউনও করে বিএনপি। কাকরাইল মোড় থেকে ইত্তেফাক পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য ছিল। র‌্যালিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশ নেন। তবে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মির্জা ফখরুলসহ সিনিয়র নেতাদের শূন্যতা ছিল।

র‌্যালিতে অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের একদল কর্মী। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এভাবে তো কোনও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একেবারে সিনিয়র ছাড়া অনুষ্ঠিত হলো। স্থায়ী কমিটিতে যারা মধ্যম স্তরে রয়েছেন, তারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটা স্বাভাবিকভাবেই শূন্যতা তৈরি করেছে। তবে জমায়েতে কোনও দুর্বলতা দেখানো হয়নি।

স্থায়ী কমিটির একজন নেতার ভাষ্য, বিএনপিতে নেতৃত্বের কোনও সংকট নেই।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ছিল। বিপুল জমায়েত ও নানামাত্রিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই র‌্যালিতে স্বাভাবিকভাবে ম্যাডাম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা ছিলেন না, যারা চিকিৎসার কাজে ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তাদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সব সংগঠনের দায়িত্বশীলরা র‌্যালি সফল কর্মতৎপরতা দেখিয়েছেন। আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র গণতন্ত্রকামী নেতাদের উপলব্ধি নিয়েই আজকের কর্মসূচি পালন করেছি।’