বিএনপির মহাসমাবেশ, হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ছয় দিনে চার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে গত ছয় দিনে ৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা হয়েছে ৭১টি।’
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ, ২৯ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ হরতাল এবং ৩১ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধকে কেন্দ্র করে ২ হাজার ২৮০ জনের বেশি নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। মামলা হয়েছে ৪৬টির বেশি। ৩ হাজার ৩৫০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া একজন সাংবাদিকসহ আট জন নিহত হন।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে এক মহাসমুদ্র। এই দৃশ্য সহ্য করতে পারেনি সরকারের পেটোয়া বাহিনী। সমাবেশের মানুষদের লক্ষ্য করে খই ফোটানোর মতো বন্দুকের গুলি ছুড়তে থাকে। নিহত, আহত আর গ্রেফতারের নির্বিচারে জুলুমের নারকীয় দৃশ্যের সূচনা হয়।’
সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকার পতনের এক দফা দাবি, মহাসমাবেশে হামলা ও দলের মহাসচিবকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা ৭২ ঘণ্টা অবরোধের আজ প্রথম দিন। শান্তিপূর্ণ এই অবরোধ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশ কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছাত্রদল নেতা রেফায়েত উল্লাহ ও কৃষক দল নেতা বিল্লাল মিয়া এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার যুবদল নেতা জিলু আহমেদ জিলুকে গাড়িচাপা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আসলে সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্বাচনি প্রক্রিয়া, স্বচ্ছ ভোট, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি শব্দগুলোতে আঁতকে উঠে বিরোধীদলকে বিনাশ করতে অস্ত্র নিয়ে নেমেছে সরকারের বাহিনী। ২৮ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত সব হত্যাকাণ্ড সরকারের মাস্টার প্ল্যান।’