নিস্তব্ধ বিএনপি অফিসের সামনে আ.লীগের আনন্দ মিছিল

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারা হচ্ছেন নৌকার মাঝি সেই ফলাফল জানতেই আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সকাল থেকেই ভিড় করছেন বিভিন্ন আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠী।  উৎকণ্ঠা-উদ্দীপনা ছাপিয়ে নির্বাচনি ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। তবে এর বিপরীত চিত্র দেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান দল বিএনপির কার্যালয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এই পার্টি অফিস। সর্বক্ষণ পুলিশ পাহারা রয়েছে সামনে।  বিএনপির অফিসের সামনে দিয়ে আওয়ামী লীগকর্মীদের আনন্দ মিছিল নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

রবিবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা নিয়ে নির্বাচনে নামতে যাওয়া প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগে থেকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। বিভিন্ন আসনের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা এসে জড়ো হন সেখানে। নাম ঘোষণার পর একের পর এক কাঙ্ক্ষিত নাম আসতেই সমর্থক-কর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে।

দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগে লোকে লোকারণ্য বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় (ছবি: ফোকাস বাংলা)

এর আগে সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের সঙ্গে সকালে এক মতবিনিময় সভা করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদের ৩০০টি আসনের বিপরীতে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয় ৩ হাজার ৩৬২টি।

অন্ধকারেই রয়ে গেছে বিএনপির কার্যালয়

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নির্বাচন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকলেও বিএনপির পক্ষ হতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনও নির্বাচনে যাবে না তারা।

রবিবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় যখন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নির্বাচনের আমেজ তখন বিএনপির কার্যালয় ঘুরে দেখা যায় নিস্তব্ধ অন্ধকার। গত প্রায় এক মাস পুলিশ সদস্যদের অবস্থান একেবারে কার্যালয় গেটের সামনে থাকলেও আজ সেই অবস্থান কয়েকশ মিটার দূরে সরে গেছে। কমেছে পুলিশ সদস্যদের সংখ্যাও।

বিএনপি অফিসের কাছে ঢিলেঢালাভাবে পুলিশের পাহারা

বিএনপির ডাকা সপ্তম বারের মতো অবরোধেও কোনও দলীয় নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে আসেননি। তবে পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ায় আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দিয়ে উৎসব মিছিল নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে।

গত ২৮ অক্টোবর দলীয় মহাসমাবেশে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হলে বিকাল থেকেই দলটির কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা।

পর দিন ২৯ অক্টোবর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট বিএনপি কার্যালয়ের তিন দিকে ‘ডু নট ক্রস– ক্রাইম সিন’ লেখা হলুদ ফিতা টানিয়ে দিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। এরপর থেকে গত এক মাস ধরে সেখানে সর্বক্ষণ অবস্থানে আছে পুলিশ।

নিস্তব্ধ বিএনপির কার্যালয়

বিএনপির কার্যালয় তালাবদ্ধ এবং সামনে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও গত ১৪ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, আমরা বিএনপির কার্যালয়ে তালা মেরে রাখিনি। তাদের কার্যালয়ে তারা যেকোনও সময় আসতে পারবে। এতে আমাদের কোনও বাধা নেই। তবে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

এই বক্তব্যের পরদিন ১৫ নভেম্বর সকালে বিএনপির ডাকা পঞ্চম দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন কর্মী জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকলে পল্টন থানা পুলিশ তাদের আটক করে।