আজ মঙ্গলবারের (৬ আগস্ট) মধ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি নেতারা এই বৈঠক করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকারের কাজ সমাধান করতে হবে। আমি রাষ্ট্রপ্রতির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, কালবিলম্ব না করে, আজকের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। বেলা ২টার মধ্যে দয়া করে সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করুন। অন্যথায়, দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দিতে পারে।’
ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের প্রস্তাবনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ছাত্রদের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা আছে।’
‘বর্তমানে যারা লুটপাট করছে তারা আন্দোলনকারী নন’, মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনও যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিশোধমূলকভাবে অগ্নিসংযোগ করছেন, লুটপাট করছেন, বাড়ি ঘরে হামলা করছেন, দয়া করে এই মুহূর্ত থেকে তা বন্ধ করুন। যারা এটা করছেন, তারা কেউই এই আন্দোলনের লোক নন। যারা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন, তারাই এসব কাজ করছেন।’
এ সময় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংযত থাকতেও সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি, যাতে দ্রুত চলে আসেন।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও বেগম সেমিমা রহমানসহ প্রমুখ।
‘শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, সব শহীদকে, যারা ছাত্র ও জনতা, দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর যে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সেই সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছেন। আমরা অভিবাদন জানাতে চাই, স্যালুট জানাতে চাই, আমাদের ছাত্রদের আমাদের সন্তানদের, যারা তাদের মেধা বুদ্ধিমত্তা সাহস নিয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বুকের রক্ত দিয়ে বিজয় অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা সব রাজনৈতিক দল, সব ব্যক্তি, পেশাজীবী— যারা এই সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ও আছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, এই বিজয় অর্জন করার জন্য।
গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপানাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আপনারা এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতার জন্যে কাজ করেছেন। দূঃখ প্রকাশ করছি, এই বিজয়ের পরে কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী কয়েকটি টিভি সেন্টারে অগ্নিসংযোগ করেছে, ভাঙচুর করেছে। আমরা সবসময় ফ্রিডম অব প্রেসে বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি— ব্যক্তি, মানুষ, সংগঠন বিশেষ করে সাংবাদিকরা, যারা তাদের মত একদম স্বাধীনভাবে প্রকাশ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিজয় অর্জন করা হয়েছে। কিন্তু আরও বড় দায়িত্ব রয়েছে, প্রতিটি স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের প্রতিটি নাগরিকের… এ স্বাধীনতাকে সুসংহত করা। আর সেজন্য আজকে প্রয়োজন ধৈর্য, সংযম এবং পরমতসহিষ্ণুতার জন্য নিজেকে তৈরি করা।’
‘আমরা রাহুমুক্ত হয়েছি’, মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা রাহুমুক্ত হয়েছি, ফ্যাসিবাদের যে মূল হোতা, জনগণ তাকে সরিয়েছে, সে পালিয়েছে, তাকে বিতাড়িত করেছে। সেখানে এই বিজয় নিঃসন্দেহে বড় বিজয়।’
দলের চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার বার্তা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ম্যাডাম সবাইকে প্রথম শান্ত হতে বলেছেন। এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি যেন না হয়, যাতে অর্জিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে যায় কেউ।’ এ বিষয়েও বেগম জিয়া সতর্ক থাকার আহ্বান করছেন বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
খালেদা জিয়া কবে নাগাদ জনসমক্ষে আসবেন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ম্য্যাডাম খুব অসুস্থ। আমি গতকাল (সোমবার) রাতে দেখা করেছি। সুতরাং, যখনই তিনি ফিট মনে করবেন, সুস্থ বোধ করবেন, তখন তিনি জনগণের সামনে উপস্থিত হবেন।।
এর আগে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একটি কক্ষে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সভাপতিত্বে করেন।