বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতৃত্বাধীন ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের পর সোমবার (৫ আগস্ট) থেকে প্রাণ এসেছে বিএনপিতে, এ যেন এক নতুন বিএনপি। সেদিন রাতেই রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকালে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রজ্ঞাপনের খবর আসে। সন্ধ্যায় বিএনপি জানায়, বুধবার সমাবেশ হবে নয়া পল্টনে, বক্তব্য রাখবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে মির্জা ফখরুলের গাড়ি কাকরাইল মোড়ে; সমাবেশমঞ্চ থেকে খানিক দূরে, মোড়ে ততক্ষণে উল্লসিত অংশগ্রহণকারীরা। মির্জা ফখরুলের গাড়িটিকে দ্রুত সমাবেশস্থলের কাছাকাছি নিতে খানিক হইচই, স্লোগান; কিছু অনুসারী মহাসচিবের ব্যক্তিগত গাড়িটিকে রং সাইডে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অতি উৎসাহী কেউ কেউ আবার নিজেদের বাইকের হর্ন বাজাচ্ছিলেন। এরইমধ্যে মোড়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলার কাজে থাকা দুজন ছাত্র আসেন গাড়ির কাছে।
গাড়িতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তখন ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। বাংলা ট্রিবিউনকে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলছিলেন, দুজন ছাত্র এসে মহাসচিবকে সালাম দেন। এরপর তারা বলেন, স্যার গাড়ি ট্রাফিক শৃঙ্খলা মেনে যাবে। আপনিও মেনে চলুন। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, অবশ্যই, গাড়ি শৃঙ্খলা মেনেই যাবে। যদিও তীব্র যানজটের কারণে পরে রাজমনি সিনেমা হলের সামনে থেকে সহযাত্রীদের নিয়ে পায়ে হেঁটেই নয়া পল্টনের মঞ্চে পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা যখন আন্দোলন করেছিলেন, আমরা তাদের সমর্থন জানিয়েছিলাম। এরপর থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের ১১ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু সবকিছু পেরিয়ে বাংলার ছাত্র-জনতা বিজয় কেড়ে এনেছে। এই বিজয় ছাত্র-জনতা ও নেতাকর্মীদের।’