আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ার করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ার করবো, বেশি বাড়াবাড়ি করা ঠিক হবে না। দেশবাসী যদি একবার ঘুরে দাঁড়ায় তবে কী হয়, সেটা দেড় মাস আগে দেখেছেন। এদেশের মানুষ যেমন নরম তেমনই গরম।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের উদ্যোগে ‘গণহত্যাকারী স্বৈরাচার খুনি শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে আহত ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা’ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজম ধ্বংস হয়ে গেছে এটা মনে করা যাবে না। তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের হাতে বিপুল অর্থ ও অস্ত্র আছে। একটি বড় দেশ তাদের সমর্থন করছে। সেহেতু ছোট করে দেখার কোনও অবকাশ নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার যে লুটপাট করেছে, তার নেতাকর্মীদের কাছে লাখ লাখ অস্ত্র দিয়েছে— সেই অস্ত্র বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হেফাজতে নিতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকারকে একটি ভালো নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে। দেশবাসী এ সরকারের সঙ্গে থাকবে এবং ভালো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই দেশের মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। তাই দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিদায় করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবে, এই বিশ্বাস তারা (দেশবাসী) করে। শুধু দেশবাসী নয় বিশ্ববাসীও এটা বিশ্বাস করে। এজন্যে সরকারকে সতর্ক হতে হবে। নির্বাচনের দিকে যাতে এগিয়ে যেতে পারে, তার জন্য কাজ করতে হবে।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, দেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এমনকি বায়তুল মোকাররমের যে ঘটনা ঘটেছে, এটা খুবই নিন্দনীয় এবং আশঙ্কাজনক। সেজন্যে এই সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা এক সাগর রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেছে, তাদের যে দাবি, সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, মাইনুল ইসলাম, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম, কৃষক দল নেতা সাদি, মৎস্যজীবী দলের সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।