বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম। দলের মধ্যে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, হতাশ না হয়ে কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাস রেখে দলের আদর্শ ধারণ করে নেতাকর্মীদের এগিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসান, শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ প্রমাণ করে—কোনও শ্রম বা আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যায় না।
তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ন্যায়ের শূন্যতা একদিন নানা কিছু দিয়ে পূরণ হবে।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পরিসর বাড়াচ্ছে এবং কৃষক কার্ড দিচ্ছে। এক-দুই বছরের মধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছালে জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।
৪৫ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মেজর মোজাফ্ফর হোসেন গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে বিচারহীনতা ও ষড়যন্ত্রের সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই ৪৫ বছর তিনি কোথায় ছিলেন? আন্তর্জাতিকভাবে বা দেশের ভেতরে কারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে?’
একইসঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় তিনি অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, সেটিও আলোচনায় আসা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মুগ্ধ, ওয়াসিফ ও আবু সাঈদদের ওপর পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারতে পালিয়ে যাওয়া এসব নেতাকর্মীকে কারা আশ্রয় দিয়েছে, সে বিষয়েও জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।