তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে একজন সামরিক কর্মকর্তা থেকে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দেওয়া। তার সেই দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক ধারা সুসংহত হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন জীবন্ত সাক্ষী ও প্রজ্ঞাবান নেতা। তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাতে বন্দি থাকা অল্প কয়েকজন জাতীয় নেতার একজন। ফলে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস বিশ্লেষণ ছিল সমৃদ্ধ ও বাস্তবভিত্তিক।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর, বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারাগুলো নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছিল। কৃষক-প্রজা পার্টি, মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ঐতিহাসিক ভূমিকা তখন অনেকাংশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। একই সময়ে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার কারণে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ছিল এবং বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক ধারাও জাতীয় সংকটের কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সেই কঠিন সময়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ সম্পর্কে যে দূরদর্শিতা যাদু মিয়া দেখিয়েছিলেন, তা অন্য অনেক রাজনৈতিক নেতার মধ্যে ছিল না। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, জাতির সামনে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক নেতৃত্বে নিয়ে আসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সফলভাবে তা সম্পন্ন করেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ, বিএনপির প্রতিষ্ঠা, পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের ধারাবাহিকতার পেছনেও মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার দূরদর্শী রাজনৈতিক ভূমিকা রয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, যদি সে সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একজন জনপ্রিয় নেতায় পরিণত না হতেন, তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এবং বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারত।
নতুন প্রজন্মের কাছে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রচিন্তা তুলে ধরার আহ্বানও জানান তথ্যমন্ত্রী।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।









