রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুলের প্রস্তাবক ও সমর্থক কারা?

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। 

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে  মনোনয়নপত্র তুলে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থকের নাম নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তাবক হয়েছেন। আর তাকে সমর্থন জানাবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  

তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। 

ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। ১৬ আগস্টের মধ্যে এদের মধ্যে যদি কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন তাহলে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। 

অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য এসব ধাপ পার হলেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন। 

সবশেষ দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সাত জন রাষ্ট্রপতি পেয়েছে। বিরোধী দলের প্রার্থী না থাকায় সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ ছেড়েছেন। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পদে এখনও বহাল রয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হওয়ায় তাকে সেই পদও ছাড়তে হবে।