বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। বিজয় সরণি মোড় থেকে উদ্যান পর্যন্ত জনস্রোত সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে এবার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে সেখানে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমান উল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ শীর্ষ নেতারা দলীয় প্রধানকে অভ্যর্থনা জানান।
তবে ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানের আশপাশে সমবেত হন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। আগে থেকে সেখানে কোরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর একে একে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, কেন্দ্রীয় যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল ও মুক্তিযোদ্ধা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষে আলাদা আলাদা ব্যানারে মিছিল আসতে থাকে। পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় জিয়ার সমাধিসহ জিয়া উদ্যানের আশপাশে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মিছিল ও স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে। বিজয় সরণি থেকে সমাধি পর্যন্ত শুধু মানুষ আর মানুষ।
অনেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বাধাই করা ছবি প্রদর্শন করেন।
তাদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ঢাকার বাইরে থেকেও ছুটে আসেন কেউ কেউ।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এসেছেন মহিলা দলের নেত্রী সাকিনা আক্তার। তিনি বলেন, “বিএনপি হচ্ছে দেশের সর্বস্তরের মানুষের একটি আশ্রয়স্থল। আমরা মনে করি এটি প্রতিষ্ঠা করা ছিল জিয়াউর রহমানের এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।”
এদিকে মিছিল নিয়ে আসা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহম্মাদ বলেন, “বিএনপি হচ্ছে আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার নাম। তাই প্রতিবছর এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি। আমরা মনে করি যতদিন বাংলাদেশ থাকবে বিএনপি, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”