সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ ও প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের মুক্তির দাবিতে’ এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন। অল কমিউনিটি ফোরাম এই সমাবেশের আয়োজন করেন।
প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের কৌশল প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের লোক সাংবাদিক সেজে তার (শফিক রেহমান) বাসায় গেছেন। তারপর তাকে ডিবি পরিচয়ে গ্রেফতার করা হয়। আমি বলি, এটা কোন ধরনের রসিকতা?’
সাংবাদিক সেজে কাউকে গ্রেফতার করার জন্য সাংবাদিকদেরও তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে সরকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই খালেদার বিরুদ্ধে মামলায় দুই দিন, পাঁচ দিন ও ১০ দিন পর পর ডেট ফেলা হচ্ছে। এসবের উদ্দেশ্য কী? তাদের উদ্দেশ্য হলো একটাই, খালেদাকে যেন-তেনভাবে সাজা দেওয়া যায় কিনা। এমনকি নির্বাচনেও অযোগ্য করা যায় কিনা।’
সরকার বিএনপিকে ভয় পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ বলতেই সরকার বিএনপিকে বোঝে। সে কারণে তারা বিএনপিকে ভয় পায়। আর ভয় পায় বলেই সরকার খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রাখার চেষ্টা করছে।’
বর্তমান ও সাবেক দুইবারের প্রধানমন্ত্রীর মামলা প্রসঙ্গে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘নাইকো মামলায় খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা আসামি ছিল। তবে সে মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লিয়ার করে ফেলেছেন। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে এখনও গিয়ে গিয়ে হাজিরা দিতে হচ্ছে।’
এ সময় তিনি বর্তমান সরকারকে দুর্বৃত্তের সরকার ও বিনাভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন। সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রবীণ এই নেতা আরও বলেন, ‘সরকার প্রতিপক্ষকে নির্বাচনে আসতে দিতে চায় না। তবে যারা এসেছে, তাদেরকে নানা কৌশলে নির্বাচন থেকে সরিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করতে চায়। সেই সঙ্গে তারা জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকতে দুর্বৃত্তায়নও করছে।’
সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামন দুদু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
/এসআইএস/এফএস/এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-