সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে চলছে কথার লড়াই। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতকে বলছেন,‘গুপ্ত’। তার দাবি, সরকারের বিপক্ষে অতীতের স্বৈরাচার আর বর্তমান ‘গুপ্তরা’ একসঙ্গে নানা ষড়যন্ত্র করছে। ফেনীতে একটি জনসভায় জামায়াতের একাত্তরের নেতিবাচক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
অপরদিকে জামায়াতের আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগ, ‘‘বিএনপি চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের দল। জনগণ তাদের বিরুদ্ধে চরম অসন্তুষ্ট।’’
একইসঙ্গে দুই দলের শীর্ষ নেতারাও পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন। সভা-সমাবেশে একপক্ষ আরেকপক্ষের বিপক্ষে কড়া ভাষায় বক্তব্য রাখছেন। জাতীয় সংসদ,টেলিভিশনের টকশো—সব জায়গায়ই একই চিত্র। ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান, মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় পরস্পরকে দোষারোপ ও বিমানবন্দরে অশোভন আচরণের দায়ে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দানে আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে কিনা—এমন আলোচনাও চলছে। কারণ এ ইস্যুতে রাজপথে মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াত। এমনকি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বিবাদে লিপ্ত রয়েছে দুই দলের ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির।
সাবেক দুই মিত্র দলের এমন সাপে-নেউলে সম্পর্ক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, জুলাই আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক ময়দানে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণেই মূলত আলাদা প্ল্যাটফর্মে রাজনীতি করছে বিএনপি-জামায়াত। তবে দুই দলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মাঠে থাকলে হয়তো ভিন্ন চিত্র দেখা যেতো। বিশেষ করে ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য থাকতো এবং আসন ভাগাভাগি হতো! কারণ বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে দুইপক্ষই নানাভাবে নির্যাতিত। রাজপথে একে অপরের সহযোগী ছিল। তাই দীর্ঘ বন্ধুর পথ অতিক্রম করে একটি স্থিতিশীল পরিবেশে রাজনীতি করছিল দুইপক্ষই। সম্প্রতি সে পরিস্থিতিতে কিছুটা চিড় ধরেছে। বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারের আট মাসের মাথায় বিএনপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্বের ভবিষ্যৎ কী? এতে কার লাভ কার ক্ষতি?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির যুগপতের শরিক একটি দলের প্রধান বলেন, বিএনপি ও জামায়াত ভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক দল হলেও ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে দুই দলের অবস্থানই এক। তাই এই সময়ে সরকার এবং বিরোধী অবস্থানে থাকলেও দুই দলের মধ্যেই এক ধরনের বোঝাপড়া থাকা উচিত। তার মতে, দুই দল এখনই হার্ডলাইনে গেলে তৃতীয় কোনও পক্ষ লাভবান হতে পারে। হয় আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সহজ হবে, অথবা অগণতান্ত্রিক শক্তির উদ্ভব হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিএনপি ও জামায়াত তো দীর্ঘদিনের মিত্র ছিল। দুই দলই জুলাইয়ের পক্ষের শক্তি। তাই দুইপক্ষ এখনই হার্ডলাইনে গেলে এক ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। যদিও এতে কারা লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেটা এখনই বলা কঠিন।’’ তবে এতে গণতান্ত্রিক ধারা নতুন করে হোঁচট খেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বিএনপি ও জামায়াতের অতীত সখ্য
বিগত সাড়ে তিন দশকের রাজনৈতিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এক ধরনের দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী হওয়ায় তাদের মধ্যে এক ধরনের আদর্শিক ঐক্য সব সময়ই ছিল। তাই কখনও সমঝোতা, আবার কখনও রাজনৈতিক জোট গঠন করে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে দুই দল। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করলেও কখনও নির্বাচনি সমঝোতা বা সরাসরি জোট গঠন করেনি জামায়াত। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক সখ্যের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। শুরুটা হয় ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর। তখন প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এককভাবে ১৪০টি আসন পায় বিএনপি। আর ১৮টি আসন পায় জামায়াত। কিন্তু ১৫১ আসনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিএনপিকে সরকার গঠন করতে হয় জামায়াতের সমর্থনে। এতে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। যদিও এক বছর পর নাগরিকত্ব ইস্যুতে গ্রেফতার করা হয় জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযমকে। এরপরই দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে দলটি। যদিও তারা নির্বাচনি সমঝোতায় যায়নি।
১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এতে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। এর কয়েক বছর পরপরই তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দুই দলই মাঠে আন্দোলন করে। এরই অংশ হিসেবে ১৯৯৯ সালে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠন হয় চারদলীয় ঐক্যজোট জোট। যদিও কয়েক মাস পর সেই জোট থেকে বের হয়ে যায় এরশাদের জাতীয় পার্টি। অবশ্য নাজিউর রহমান মঞ্জুরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির ক্ষুদ্র একটি অংশ জোটে থেকে যায়। তখন কার্যত বিএনপি ও জামায়াতই ছিল সেই জোটের চালিকাশক্তি। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে চারদলীয় জোট। এতে মন্ত্রিসভায় স্থান পান জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।
২০০৮ সালের নবম নির্বাচনেও দল দুটি একসঙ্গে নির্বাচন করে। তখন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। তবে তখনও অটুট ছিল চারদলীয় ঐক্যজোট। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন বর্জন করে তারা। ১৩ থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত রাজপথে ব্যাপক আন্দোলন করে দল দুটি। সময়ের ব্যবধানে চারদলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে প্রথমে ১৮ ও পরবর্তীকালে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে সভা-সমাবেশ করে।
এমনকি ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হলে সে সময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অধীনে ২২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে দলটি।
তখন দুই দলই নির্বাচনে আশানুরূপ আসন পায়নি। এর কয়েক মাস পরই ২০ দলীয় জোট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয় প্রধান শরিক দল বিএনপি। তারা যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। এতে অঘোষিতভাবে জামায়াতও রাজপথে আন্দোলন করে।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য ছিল। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও কিছু দিন তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেও এক দল আরেক দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। এমনকি জুলাই সনদেও একসঙ্গে স্বাক্ষর করে তারা। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানেও এক মঞ্চে ওঠেন নেতারা। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দুই দিন পর গুলশানের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন জামায়াতের আমিরসহ শীর্ষ নেতারা।
মিত্র থেকে প্রতিপক্ষ হলো কীভাবে?
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় আলাদাভাবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সাবেক দুই মিত্র দল বিএনপি ও জামায়াত। তবে নির্বাচনি প্রচারণায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রকাশ্যে একপক্ষ আরেক পক্ষকে নিয়ে বিষোদগারমূলক বক্তব্য দেয়। বিশেষ করে প্রচারণা শুরুর প্রায় প্রতিদিনই দেশের একপ্রান্তে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং আরেক প্রান্তে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যে একে অপরকে আক্রমণ করে কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও গুপ্ত। আর জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজ ও দখলবাজ। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মারামারিতে জড়িয়ে পরে দুইপক্ষ। নির্বাচনে বিএনপি দুই শতাধিক আসন পেয়ে সরকার ও জামায়াতসহ তাদের মিত্ররা মিলে বিরোধী আসনে বসে। সরকার গঠন করলেও জামায়াতের ইফতার মাহফিলে অংশ নেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনকি মন্ত্রিসভার শপথের আগেও জামায়াতের আমিরের বাসায় যান তিনি। ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথের দিন জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপির সদস্যরা। তারা শুধু সংসদ সদস্যের একটি শপথ নেন। যেখানে জামায়াত ও এনসিপির এমপিরা দুটি শপথ নেন। মূলত সেখান থেকেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরপর ২৩ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদ উত্তপ্ত হয়। সেদিনই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা। এরপর থেকেই সংসদ ও রাজপথ দুই দিকেই মুখোমুখি অবস্থান নেয় বিএনপি জামায়াত। ইতোমধ্যে সরকারের বিপক্ষে রাজপথে মিছিল, সমাবেশ ও লংমার্চ করেছে ১১ দল। তারা সরকারকে এক দফা আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে।
বিরোধিতা কি লোকদেখানো?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বিএনপি ও জামায়াত মুখে মুখে যাই বলুক, তাদের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা আছে। কারণ আওয়ামী লীগের মতো একটি দল না থাকায় সবাই এক রাজনীতি করলেই তো হবে না। তাই জামায়াত নিজেদের শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছে। আর সরকারও নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। তাই অনেক সময় কঠোরতার নীতি অবলম্বন করছে। সর্বশেষ জামায়াতের সহযোগী সদস্য ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকেও একই কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তার ধারণা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির অন্যতম মিত্র বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিএনপি ও জামায়াত তো একসঙ্গেই আন্দোলন করেছে। জুলাইয়ের প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই আলাদা হতে হবে। তাই জামায়াত তাদের রাজনীতি করছে। তবে তারা যে বিরোধী দল তা প্রমাণ করতে তাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তারা এখনই সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ তারাও ইতিহাসের সর্বোচ্চ সুবিধাজনক সময় অতিক্রিম করছে।’’
কার লাভ কার ক্ষতি?
বিএনপি ও জামায়াতের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বে কাদের লাভ বা কাদের ক্ষতি, সে প্রশ্ন সামনে আসছে। এ বিষয়টি নিয়ে একেকজন একেক কথা বলছেন। কেউ কেউ মনে করেন, তাদের বিভাজনে তৃতীয় শক্তির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ অথবা অগণতান্ত্রিক শক্তি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিএনপি ও জামায়াত সরকার বা বিরোধী দলে থাকলেও তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি। তাই পতিত আওয়ামী লীগ প্রশ্নে দুই দলই সতর্ক থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।’’
তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে দেশ অস্থিতিশীল হলে অশুভ শক্তির উত্থান ঘটতে পারে।
আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমরা বিরোধী দল হলেও সরকারের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা এবং গঠনমূলক সমালোচনা করছি। এরপরও সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অন্যথায় ভিন্ন রকম আবহ তৈরি হতে পারে।’’
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সরকার এখন পর্যন্ত উদারতা প্রদর্শন করে আসছে। আর বিরোধী দল অহেতুক ইস্যু বানিয়ে দেশকে বিপদে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে কারা লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা বলতে চাই না। তবে গণতন্ত্র নস্যাতের পথ তৈরি হতে পারে।’’