জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘বাসায় যুদ্ধ করে’ স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) অষ্টম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমি আরেকজনকে ধন্যবাদ দিতে চাই, যাকে কেউ ধন্যবাদ দেয় না। আমি ধন্যবাদ জানাই ডা. জুবাইদা রহমানকে। তিনি স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ করার জন্য বাসায় যুদ্ধ করেছেন। স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ হয়েছে। দেশের মানুষ ৫০ বছর বয়সের পর হাসপাতালে ছোটে— হার্টের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, ফুসফুসের সমস্যা, পেটের সমস্যাসহ নানা ধরনের অসুস্থতা নিয়ে। মানুষের কর্মক্ষম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টা হাসপাতালে কাটে। এর ফলে অনেক সমস্যা তৈরি হয়।’
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমরা ভেজাল খাবার খাই, ভেজাল মাছ খাই, ভেজাল মাংস খাই। এটাও একটা বড় সমস্যা। আমরা অনেক কিছু করতে পারিনি। আবার সবকিছুর দায় বিগত সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলেও হবে না। আমরা মানসিকভাবেও একধরনের পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছি। আমরা কাউকে ঠকাতে পারলে খুশি হই। একজনের উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করতে পারলে যেন আনন্দ পাই।’
চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘এক লেখায় বলেছিলাম, কারও পরচর্চা করতে বসলে মনে হয়, মৃত মানুষও উঠে বসবে। পরচর্চা করতে আমাদের খুব ভালো লাগে। সব মিলিয়ে, মানসিকভাবে আমরা যেন একধরনের বিকৃতির মধ্যে পড়ে গেছি।’
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছেন বলে জানান চিফ হুইপ।
দেশে হামের টিকাদানে ঘাটতির প্রসঙ্গ তুলে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘দেশে গত দুই বছর হামের টিকাদানে ঘাটতি থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে সৃষ্ট এ পরিস্থিতির চাপ বর্তমান সরকারকে সামাল দিতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা মোকাবিলা এবং জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।’
থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘মানবদেহের বৃদ্ধি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে থাইরয়েড গ্রন্থির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ রোগের প্রতিরোধ, দ্রুত নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। থাইরয়েড বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবো। এ ক্ষেত্রে সংসদে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ থাকলে তা বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করবো।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা। অনুষ্ঠানে সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ফৌজিয়া মোসলেম উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী সম্মেলনে থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যান্সার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতিজনিত রোগ এবং থাইরয়েড রোগের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা হয়। সম্মেলনে ১২টি মৌখিক গবেষণাপত্র ও ১০টি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়।