জাতীয় সংসদে ৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “৮৫ হাজার টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে হবে এমন দাবি তুলেছিলাম সংসদে। এই কারণে অনেক সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে।” জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কোনও সিন্ডিকেটের কোনও হুমকির তোয়াক্কা তিনি করবেন না বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বুধবার (১ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এই দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করবো সংসদে। প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে আমরা কথা বলেছি আপনারা দেখেছেন। আজ খবর পেলাম যে— এক দল আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গেছে। আমি কেন বললাম মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠাতে হবে। দালাল যারা তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে— আমি কি দালালের কোনও তালিকা দিয়েছি আপনাদের জানা মতে? আমি কি কোন সংস্থার কথা বলেছি— আপনাদের জানা মতে, বলি নাই। তাহলে কিছু লোকের গায়ে এত কষ্ট লাগে কেন?”
তিনি বলেন, “এই সিন্ডিকেট শুধু মালয়েশিয়ায় নয়। সারা বিশ্বে আমাদের এই গরিব লোকগুলোকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়। এরপরে তারা প্রতাারিত হয়। সেখানে আবার গিয়ে দেখা যায় যে, তার ওই ভ্যালিডিটিটাও নাই। জেলে থাকে। তা আমরা কি এগুলা নিরবে গিলবো আর হজম করবো? দেখতে থাকবো? না। এগুলার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা কী করতে পারবো? আমরা সংসদের ভেতরে চিৎকার দেবো, আওয়াজ তুলবো।”
মুদি দোকানের কর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গরিব মানুষ প্রান্তিক ব্যবসায়ী মুদি দোকানদার তাদের ওপরে উৎসে বা অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছিল। মানে প্রস্তাবনা এসেছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এটাও আউট হয়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল। কিন্তু কিছু জায়গায় আমরা ওনাদের মানে হয়তোবা বোঝাতে সক্ষম হইনি।”
অর্থবছর প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা অর্থবছর পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমাদের দেশে একটা দানব আছে, উন্নয়নের দানব। এটা নয় মাস কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমায়। শেষের তিন মাস গা ঝাড়া দিয়ে চলে আসে। এসে এমন গতিতে কাজ শুরু করে, ঝড়ের গতিতে। নয় মাসে এডিপি ব্যয়য় ৪২ শতাংশ অথচ তিন মাসে ৫০ শতাংশ এবং তখন কী হয়? বৃষ্টি ঝড়ে জনগণের টাকা পানির সঙ্গে মিশে যায়। লুটপাট, অপচয়, হজম হয়ে যায়। কেন এটা করতে হবে তার কোনও যৌক্তিকতা নেই। আমরা বলেছিলাম আমাদের আবহাওয়া এবং সিজন অনুযায়ী এটা হোক— জানুয়ারির ১ থেকে ডিসেম্বরের ৩১। তাহলে অন্তত শেষ তিন মাসে দানবের ঘুম ভাঙলেও আমাদের সম্পদ পানিতে পানি হয়ে হারিয়ে যাবে না— ভেসে যাবে না।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আপনারা দেখেছেন বিদেশ থেকে সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের ওপরে একটা ভালো ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব এসেছে। আমরা এটা তুলে দিতে বলেছিলাম। অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে বললেন যে, সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে ভালো হতো। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। উনারা আশ্বাস দিলেন যে, এখন আর এটা বিলে আনা যাচ্ছে না।”
জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা বলেন, “একটা ক্ষুদ্র শিল্প এটাকে প্রমোট করলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রাও আমরা অর্জন করতে পারবো। কিন্তু অতিরিক্ত কর যদি আরোপ হয় তাহলে বিদেশের চাহিদা আমরা মেটাতে পারবো না। তখন কম্পিটিশনে আমরা টিকবো না, এটা তারা গ্রহণ করেছে।”
নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে ওয়াদা করেছিলাম। আমাদের কেউ নির্বাচিত হলে এমপি হোক, মন্ত্রী হোক, যাই হোক আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনবো না। সরকারি কোনও প্লটের সুবিধা নেবো না। কিছু বন্ধুর ‘কিছু গুড়ের সাথে কিছু লবণ’ না ছিটাইলে আরাম পান না। আমরা যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি। অস্পষ্ট কোনও কথা বলিনি। এখানে লাগায়ে দিছে ফ্ল্যাট নেবো না। এখন সরকারি ফ্ল্যাট এমপিদের জন্য ডেজিগনেটেড। এটা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য। এটা সরকার আমাকে দিয়ে দিচ্ছে নাকি? ওটা যত সময় সংসদ কার্যকর থাকবে তত সময় উনি ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই ব্যবহার করবে। যখন সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন আর কেউ এক সেকেন্ড এখানে থাকার কোনও নৈতিক এবং বৈধ অধিকার নেই। ছেড়ে দিতে হবে। এটাকে এটা নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জল ঘোলা করা হয়। আমরা আরও বলেছিলাম সরকারি সুযোগ-সুবিধা যতটা না নিলে না হয়— আমরা চেষ্টা করবো। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায় এখানে কোনও অপরাধ নেই। আমরা সেটা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।”
বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বাজেটকে বলা হচ্ছে সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট। কিন্তু আমরা যদি মানি অ্যান্ড মার্কেট ইনফ্লেশনের কথা চিন্তা করি তাহলে এটাকে সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট বলা যাবে না। অনেকটা বাজারের সঙ্গে এটা সংগতিপূর্ণ। বড় বাজেট করা কোনও অপরাধ নয়। একটা জাতির মিশন থাকলে বড় বাজেট লাগবে। চ্যালেঞ্জটা কয়েক জায়গায় একটা হলো— বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতার চাইতে বড় হলো দুর্নীতি। এই দুই জায়গায় যদি বড় সংস্কার আনা না যায়, বাজেট হবে কিন্তু বাজেটের প্রকৃত সুফল জনগণ পাবে না। এই বাজেট থেকেই তো ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে। যদি এই দুই জিনিসের সংস্কার না হয় আবার যাবে। এই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা শুধু এনবিআরের না। এনবিআর হলো আমাদের কালেক্টর। কিন্তু এক্সিকিউশন এক্সিকিউটিভ ডিপার্টমেন্টেরর ওপর।”