বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে হেনস্তায় ১১ দলীয় ঐক্যের নিন্দা, বিচার দাবি  

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ নেতাদেরকে হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান নেতারা। 

বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে ১১ দলের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সই করা বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। 

এতে তিনি উল্লেখ করেন, “মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির সিনিয়র নেতাদেরকে পুলিশ কর্তৃক বাধাদান ও হেনস্তার ঘটনার ঘটে। 

“গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ওই হামলার প্রতিবাদে ২৯ জুলাই হবিগঞ্জে এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ১৪৪ ধারা জারি করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের  আটকে দেয় পুলিশ। যা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। আমরা এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”  

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে জনগণ ও রাজনৈতিক দল বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। তাই রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে কারও ওপর হামলার স্থান গণতন্ত্রে নেই। কারও বক্তব্য আক্রমণাত্মক হলে এর জবাব রাজনৈতিকভাবে দিতে হবে। কিন্তু কথার জবাব সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেওয়া আগের ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছে।” 

হবিগঞ্জে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী আইন হাতে তুলে নিয়ে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।  

১১ দলের সমন্বয়ক আরও বলেন, “চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকার বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছে।” দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ভবিষ্যতে বিরোধী দলের যেকোনও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।