‘যতদিন জামায়াত থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগ থাকবে’— সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কবি, কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহারের এমন মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য, বিভ্রান্তিকর, অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের প্রথিতযশা কলামিস্ট, কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহারের সাম্প্রতিক মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য, বিভ্রান্তিকর, অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করেন।
জুবায়ের বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এ সময় জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে গেছে। এর ফলে দলের শীর্ষ নেতারা শাহাদাতবরণ করেছেন, হাজারো নেতাকর্মী আহত, পঙ্গু এবং কারাবরণ করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার পক্ষে কোনও বক্তব্য জনগণ গ্রহণ করবে না। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর পক্ষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা অবস্থান নেবেন, জনগণ তাদের ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করবে।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা রেখেছিল। তাই দলটিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক কাতারে দেখানোর চেষ্টা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, এসব বাস্তবায়িত হলে নতুন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের মতো ‘ফ্যাসিস্ট ও গণহত্যাকারী’ দলের রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে না।