প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জে ৪ প্রস্তাব জামায়াতের

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে অংশীজনদের নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ চার দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনের ক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার প্রস্তাব করেছে দলটি।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চলমান জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতের অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রূপপুর বেজ লোড প্ল্যান্ট (পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) কবে উৎপাদনে যাবে এবং এর ট্যারিফ কত হবে, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা; জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা। পাশাপাশি কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন মাস আগেই সরকারকে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল বিরোধী দল। এসব প্রস্তাব সরকারের টেবিলেই রয়েছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন না করে সরকার বিরোধীদের নিয়ে নানা মন্তব্য করছে, যা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

‘বিরোধীরা ১৭ বছর মাঠে ছিল না’—সরকারপ্রধানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকায় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে মাঠে দেখেননি। এতগুলো জীবন গেছে, ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে—পুরো বিশ্ব তা দেখেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দেখেনি।

তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত স্বচ্ছভাবে।