সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ জামায়াত এমপির

সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সন্ত্রাসের ভয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা কিছু বলতে চান না বলে অভিযোগ করেছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান। এমন ‘সন্ত্রাসী পরিবেশে’ সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিশেষ অধিকার প্রশ্নের কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৪ বিধিতে দেওয়া দুটি নোটিশে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংসদে ডেপুটি স্পিকারের তুলে ধরা নোটিশের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম নোটিশে মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে তার নির্বাচনি এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া প্রায় শতাধিক ডিও লেটার বাদ দিয়ে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের মাধ্যমে কাজ করানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ডিও লেটার বাস্তবায়ন করা যাবে না।

এ বিষয়ে মুজিবুর রহমান তার নোটিশে বলেন, সংশ্লিষ্ট অফিসারগণ সরকারি দলীয় সদস্যদের সন্ত্রাসের ভয়ে কোনও কিছুই বলতে চাচ্ছেন না। এমন সন্ত্রস্ত পরিবেশে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। অধিকারহারা সদস্যদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করার প্রত্যাশা করেছেন।

দ্বিতীয় নোটিশে মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি নিয়োগের জন্য প্যাডে লিখিত ডিও লেটার দিতে হয়। সে অনুযায়ী রাজশাহী-১ আসনের গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানেও তার সুপারিশ অনুযায়ী সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দুটি নোটিশের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মাননীয় সদস্যের নোটিশ দুটির বিষয় প্রায় একই ধরনের।

তিনি বলেন, সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম লক্ষ্য। নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উভয়েই এ লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করতে পারেন।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য যাতে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট থাকবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। একই এলাকায় একজন সদস্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অন্যজনকে যেন গুরুত্বহীন না করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলে দৃষ্টি রাখবেন।

তবে বিষয়টি সংসদের হস্তক্ষেপের উপযোগী নয় বিধায় মুজিবুর রহমানের দুটি নোটিশই বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের প্রশ্ন হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিষয়টি সংসদের হস্তক্ষেপের উপযোগী নয়, বিধায় মাননীয় সদস্যের নোটিশ দুটির কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৫ উপবিধি (৪) অনুযায়ী বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের প্রশ্ন হিসেবে গ্রহণ করা গেল না বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।