কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইয়াশাত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অপ্রতিমের শোকসন্তপ্ত মা ড. নাহিদা বেগম, বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এবং স্বজনদের এই অসহনীয় শোক আল্লাহ তায়ালা সহ্য করার শক্তি দান করুন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে অপ্রতীমের রূহের মাগফিরাত ও শাহাদা কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৈশোরের দুরন্ত সময়ে যে শিশুটি বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে আনন্দের মুহূর্ত কাটানোর জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিল, তাকে আর জীবিত অবস্থায় ফিরে আসতে দেওয়া হলো না; এমন পৈশাচিক দৃশ্যে কোনও বিবেকবান মানুষ নির্বিকার থাকতে পারে না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অপ্রতিমের এই মর্মান্তিক পরিণতি শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়; এটি গোটা সমাজের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা। একজন শিশু যদি নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আর নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারে, তাহলে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এহেন অবনতিতে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন।’
অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে এই নির্মম ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনে কোনো অপরাধীচক্র বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না; নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তা দ্রুত উদঘাটন করতে হবে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, আবার প্রকৃত অপরাধীরাও যেন কোনওভাবেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে। সন্দেহভাজনদের বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’