ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্মরণগাঁথায় জুলাই: বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারেই কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। এমন অভিযোগ করেছেন নেতারা। এ নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি তার পদত্যাগ দাবি করেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে। অবশ্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে বিদ্যুৎবিভ্রাট বলে দাবি করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এই ঘটনা ঘটে।
একই সময়ে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ থাকলেও ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠানে এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখাকে ‘পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের নেতারা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল শাখার আহ্বায়ক সাইদুর রহমান শাহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের কর্মসূচি বিকাল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর ২টা থেকেই অডিটোরিয়ামে বিদ্যুৎ নেই। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বারবার অনুষদের ডিন, চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রথমে আমাদের বলা হয় ফিউজ পুড়ে গেছে, পরে দাবি করা হয় জেনারেটরও দীর্ঘক্ষণ চলার কারণে অটোমেটিক্যালি বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ একই সময়ে টিএসসিতে বিদ্যুৎ ছিল এবং সেখানে স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠান চলছিল।”
প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি খারাপ দেখে আমরা আইএমএল (আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিই। প্রথমে দেখা যায় সেখানে বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু আমরা বুকিংয়ের কথা বলতেই পরে জানানো হয় সেখানেও বিদ্যুৎ নেই। এমনকি কলাভবনের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।”
তিনি বলেন, “প্রধান অতিথি নাহিদ ইসলাম আসার পরও বিদ্যুৎ ফেরেনি। বাধ্য হয়ে আমরা অন্ধকারেই মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, অনুষ্ঠান শেষের দিকে ডিন স্যারের সঙ্গে আমরা কড়া ভাষায় কথা বলার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে বিদ্যুৎ ফিরে আসে। সবকিছু মিলিয়ে পুরো বিষয়টি আমাদের কাছে সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়েছে।”
ডিনের পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ
জাতীয় ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ সময় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু আপনি এখন একটি প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সক্রিয় ছাত্রসংগঠন এখানে কর্মসূচি করছে, অথচ দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই। এটি অবশ্যই প্রশাসনের দায়িত্বের বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় বিদ্যুৎ থাকে না, আপনারা কেন দায়িত্বে আছেন?” এ সময় ডিনের পদত্যাগ দাবি করেন নাহিদ।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, “সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চলেছে। পরে জেনারেটরও বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের বিষয়ে রাত সোয়া ৮টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয় ১৫ জুলাই সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ-বিভ্রাট দেখা দেয়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেনারেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। জেনারেটর প্রায় চার ঘণ্টা অবিরাম চলার পর হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৌশল দফতরে যোগাযোগ করা হয়। পরে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দফতরের সমন্বয়ে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার কাজ চলমান রয়েছে।
হঠাৎ এই বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠান পরিচালনায় সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।