জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি নাহিদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাইসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে এনসিপির ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৭ ও ১৮ জুলাই আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়লে দুটি শক্তি এই আন্দোলনের পুনর্জাগরণ ঘটায়—মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ভূখণ্ডের মানুষের অধিকার আদায়ে যুগে যুগে ওলামায়ে কেরাম জীবন দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। গত কয়েক দশক ধরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জুব্বা রক্তাক্ত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়েই এই জুব্বা বিদ্রোহ ও লড়াইয়ের প্রতীক। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এই ত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। কিন্তু জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল পরিবর্তন। আমরা সেই পরিবর্তনের কথা বললে বলা হচ্ছে, আমরা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করছি। জুলাই কেউ বিক্রি করছে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে গত ৫০ বছর আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র হত্যা করেছে, গুম-খুনের রাজনীতি করেছে এবং দেশের অর্থ লুটপাট করেছে। সেই চেতনার কথাই এখন বিএনপির কাছেও সবচেয়ে বেশি শুনি।’

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। কিন্তু জনগণ জানে, জুলাইয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিলং থেকে ফিরেছেন। বিএনপি দায়িত্বহীন ক্ষমতা পেয়েছে, আর আমরা পেয়েছিলাম ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত আদেশ যদি অবৈধ হয়, তাহলে সেই আদেশ দেওয়া রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়িয়েছেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?’

অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। বিপ্লবের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন এবং গণভোট হয়েছে। সংবিধানে ২০২৪ সালে নির্বাচনের কথা ছিল না, ছিল ২০২৯ সালের নির্বাচন। তাই ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাস্তবতাকে সংবিধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না; এটি জুলাই বিপ্লবের জনগণের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে। সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠন। সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে যে প্রহসন করছে, সেখান থেকে সরে এসে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুক। অন্যথায় ওলামায়ে কেরামসহ জুলাইয়ের সব শক্তিকে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। যদিও আমরা চাই, সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান হোক।’

সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার, চিন্তক মুসা আল হাফিজ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।