অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি–২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ)।
সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. শাদরুল আলম ও সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ শনিবার (৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য কোনও বিলাসিতা নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ দুর্বল বা বাতিল করা হলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগী এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংগঠনটির দাবি, বাজারের ওপর ১৮০টি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হলে এসব ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ, অ্যাজমা ও কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। এসব ওষুধের দাম বেড়ে গেলে অনেক রোগী অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন না। এতে রোগের জটিলতা ও অকালমৃত্যুর হার বাড়তে পারে।
এনএইচএর নেতারা বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনোভাবেই ওষুধের বাজারকে অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার সুযোগ করে দেওয়া উচিত নয়।
সংগঠনটি সরকারের প্রতি অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধের কার্যকর মূল্যনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, বাজার তদারকি জোরদার করা, নতুন করে ওষুধ কোম্পানিগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া ১৮০টি ওষুধের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং রোগীবান্ধব জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।