নতুন করে গণভোটের কথা বলা সরকারের অপকৌশলেরই অংশ: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন,  ‘সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। কথা ছিল ভোটের পর নির্বাচিত সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সরকারের মধ্যে এখনও সেই উপলব্ধি হয়নি।’

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন,   ‘সরকার জনরায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের কথা বলে কালক্ষেপন করতে চায়। এখন আবার নতুন করে গণভোটের কথা বলা সরকারের অপকৌশলেরই অংশ। কিন্তু দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না ‘

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ সালমান মুক্তাদির স্টুডিওর ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সালমান মুক্তাদির স্টুডিওর ঘটনাটা দেখলাম। সেখানে এখন ভিক্টিমকে ব্লেমিং করা হচ্ছে। সেখানে স্পষ্টত ভাঙচুর হয়েছ। ফৌজদারি অপরাধ ঘটেছে। কিন্তু  সেখানে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থেকেছে। এখন নানাভাবে সেটা কারা করেছে বা ভিক্টিমের দায় কী, এই ধরনের অনেক নাটক সাজাচ্ছে সরকার ‘

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সরকার বলেছিল নির্বাচিত সরকার এলে দেশে মব থেমে যাবে, আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক থাকবে। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশের আরও বেশি অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। আমরা মনে করি এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাবে না।‘

দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিরপুরে রাড্ডা সেন্টার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। রাতের আঁধারে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সেখানে ভাঙচুর হয়েছে। ঢাকা শহরে, রাজধানীতে রাতের বেলা তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর করবে এবং প্রশাসন সেখানে কিছুই করতে পারবে না, এটি হতে পারে না। এটা সরকারি ইন্ধনে, রাষ্ট্রীয় মদদে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই ঘটনাটি ঘটেছে।’

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা ও রাড্ডা সেন্টারের বিষয়টি নানাভাবে রাজধানীতে হওয়ার কারণে আমাদের সামনে এসেছে। সারাদেশের পরিস্থিতি কিন্তু এটি। আমরা হবিগঞ্জে দেখলাম সিএনজি স্ট্যান্ড বা অটোস্ট্যান্ড দখল নিয়ে ব্যাপক মারামারি। সাভারে মাদরাসা দখলের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রী বললেন যে সব চাকরি, টেন্ডার, সবকিছু দলের লোকেরা পাবে। তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ  দেখলাম, প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষায় সেখানে প্রায় আড়াই হাজার জনকে চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনও ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা সন্ত্রাসী সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম, এ ধরনের কোনও সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই। এমনকি আমাদের অনেক যারা আন্দোলনের সহযোদ্ধা ছিলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন, সহপাঠী ছিলেন, সেরকম অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

নাহিদ বলেন, ‘যদি একজন চাকরিপ্রার্থীকে অন্যায়ভাবে এই চাকরি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা তার জন্য লড়বো, আমরা তার জন্য কথা বলবো, আমরা তার জন্য আন্দোলনে যাবো, প্রয়োজনে মাঠে থাকবো। এনসিপির কার্যালয়, অফিস তাদের জন্য খোলা আছে। আমরা সবাইকে বলবো, যদি আপনারা কেউ মনে করেন আপনাদের অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং সেরকম তথ্য-প্রমাণ যদি আপনারা দেখাতে পারেন, জনগণের সামনে, ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকবো।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।