মুগদায় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

‘একদল উচ্ছেদ করে আরেকদল টাকা নিয়ে আবার বসায়, চক্রাকারে চাঁদাবাজি চলছে’

একদল দোকান উচ্ছেদ করে, আরেকদল টাকা নিয়ে আবার বসিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, ফুটপাতের দোকানদার ও অটোরিকশাচালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। সরকার একদিকে দোকান উচ্ছেদ করছে, অন্যদিকে সরকারদলীয় লোকজন টাকা নিয়ে আবার দোকান বসানোর ব্যবস্থা করছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর মুগদা এলাকায় জনসংযোগকালে এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ছিলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘সরকার অটোরিকশা বন্ধ করে দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করছে। ঢাকা শহর সুন্দর করতে হবে, কিন্তু এটাও জরুরি যে মানুষকে ঘরে ঘরে চাকরি দিতে হবে। আপনি যখন মানুষকে চাকরি দিতে পারবেন না, তখন মানুষ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় দোকান বসায়, একটা অটোরিকশা চালায়।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের যারা এজেন্ডাভুক্ত কর্মচারী আছে, দলীয় লোক; তারাই অটোরিকশার জন্য চাঁদাবাজি করে, দোকানদারের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে। আবার সরকারদলীয় এমপি বা প্রশাসক এসে ওই দোকান উঠিয়ে দেন। পরে সরকারদলীয় লোকজন দোকানদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে, সরকার আমাকে উঠিয়ে দিয়েছে, তুমি আমাকে টাকা দাও, আমি আবার দোকান বসিয়ে দেবো।’

এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘চক্রবৃদ্ধি হারে চাঁদাবাজির ব্যবসা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘চক্রবৃদ্ধি যেভাবে সুদের ব্যবসা আগে ইহুদিরা করতো, এরা হলো চক্রবৃদ্ধি আকারে চাঁদাবাজির ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলেন, যাকে প্রশাসক দেওয়া হয়েছে, তাকেই আমরা ইনশাআল্লাহ মেয়র পদে দাঁড় করাবো। পরে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে তিনি অন্য উত্তর দিলেন। বাংলাদেশে এমন একটা অবস্থা হয়েছে, যা বিএনপি তাই প্রশাসক, যা প্রশাসক তাই মেয়র। মেয়র যা, প্রশাসকও তাই। প্রশাসক যা, তাই হলো বিএনপি।’

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি ছিল, এখনও সেই ব্যবস্থা চলছে। শেখ হাসিনা গিয়েছে, তারেক রহমান এসেছে, বাংলাদেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে যুবলীগ চাঁদাবাজি করতো, এখন যুবদল করে। আগে ছাত্রলীগ চাঁদাবাজি করতো, এখন ছাত্রদল করে। তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?’

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘পুলিশের কনস্টেবলরা অনেক কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের আট ঘণ্টার বেশি ডিউটি করানো হয়, কিন্তু সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। শেখ হাসিনা তাঁদের রাষ্ট্রীয় বাহিনী থেকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন। তারেক রহমানও সেই পথে হাঁটছেন।’

পুলিশের যেসব সদস্য চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানান তিনি। তবে পুলিশের আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘পুলিশের আইজিপি যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা প্রত্যাহার করতে হবে। যদি তিনি প্রত্যাহার না করেন, তাঁকে প্রত্যাহার করতে হবে। এই বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে পুলিশের মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে পারব না।’

মুগদা এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘মুগদা এলাকার অলিগলিতে মাদক পাওয়া যায়। ডাকাতদের কাছে অস্ত্র আছে, চাঁদাবাজদের কাছে অস্ত্র আছে। কে মন্ত্রী, কে এমপি, কে চাঁদাবাজ, কে ডাকাত, কে চোর, কে সন্ত্রাসী—এগুলোর মধ্যে এখন আমরা পার্থক্য করতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের কল্যাণে আপনাদের কাছে এসেছি। গণসংযোগ করবো, যাতে মুগদা এলাকায় মাদক বন্ধ হয়, সিন্ডিকেট বন্ধ হয়, ব্যবসায়ী ভাইরা নিরাপদে থাকেন এবং মুগদা মেডিক্যালের সমস্যার সমাধান হয়।’

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্যের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘যদি এই এলাকায় গ্যাসের সমস্যার সমাধান করতে না পারেন, মশার সমস্যার সমাধান করতে না পারেন, মুগদা মেডিক্যালের সমস্যা সমাধান করতে না পারেন, তাহলে মন্ত্রিত্ব-এমপিত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসী ছেড়ে দেন, চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন, দুর্নীতি ছেড়ে দেন। মানুষের কাছে যান, তাদের সমস্যার সমাধান করুন।’