জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এনসিপির নিন্দা

চাঁদপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি মনে করে এটি শুধু একটি স্থাপনার ওপর আঘাত নয়; বরং জুলাইয়ের চেতনা, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং শহীদদের প্রতি জাতির সম্মানের ওপর সরাসরি আঘাত।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দলটির দফতর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

এতে উল্লেখ করা হয় এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পিরোজপুর, বরগুনা, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ ও যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকা প্রমাণ করে, জুলাইয়ের স্মৃতি ও অর্জনকে অসম্মানিত করার অপচেষ্টা থেমে নেই। পাশাপাশি সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অনুপস্থিতিও একের পর এ ধরনের ঘটনায় প্রভাবক ভূমিকা রেখেছে।

এনসিপি আরও জানায়, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একের পর এক এমন ঘটনা ঘটলেও সরকারের তরফে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কিংবা দৃষ্টান্তমূলক বিচার জনগণের সামনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এ ধরনের অপতৎপরতা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিচারেও প্রত্যাশিত দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকা গভীর হতাশার জন্ম দিয়েছে। জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে হামলার বিচার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের বিচার— দুটিই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দায়। শুধু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ বা স্মরণসভা আয়োজন যথেষ্ট নয়; শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপি চাঁদপুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং দেশের সব জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সব অপরাধের বিচার দৃশ্যমান ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।