এনসিপিতে কী হচ্ছে?

মহসীন কবির
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২৩:৫৯ আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০৯

প্রতিষ্ঠার মাত্র পৌনে দুই বছরে দেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান বেশ সুসংহত করেছে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।তবে সম্প্রতি আবার নতুন করে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে দলের ভেতরে ও বাইরে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে,আসলে এনসিপিতে কী হচ্ছে?

এনসিপির দাবি, প্রায় সারা দেশেই নিজেদের সংগঠন বিস্তৃত করতে সক্ষম হয়েছে তারা। জেলা, মহানগর এমনকি উপজেলা পর্যায়েও কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ৬টি আসনে জয় পেয়ে সংসদে গেছেন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ শীর্ষ নেতারা। ২ জন এমপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন দলটির ৮ নেতা-নেত্রী। ইতোমধ্যে নারী, শিক্ষার্থী, যুব, স্পোর্টস ও ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সসহ একাধিক সহযোগী সংগঠনের কমিটি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্যও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে এনসিপি। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলন করছে দলটি।  টেলিভিশন টকশোতে সরব একঝাঁক নেতা-নেত্রী।

তবে এতকিছুর পরও ক্ষণে ক্ষণে অস্থির হয়ে উঠছে দলটি। কখনও নেতাদের পদত্যাগ, আবার কখন বহিষ্কারের ঘটনায় বারবার সংবাদ শিরোনামে আসছে দলটি। এই সময়ে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করায় আদর্শগত দ্বন্দ্বে দল ছাড়েন এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতা। চলে গেছেন জাতীয়ভাবে পরিচিত বেশ কিছু নারী নেত্রী। এর মধ্যে অন্যতম ডা. তাসনিম জারা ও তাসনূভা জাবীন। সর্বশেষ এই বহরে যুক্ত হয়েছেন আরেক ডাকসাইটে নেত্রী সামান্তা শারমিন। গত ৫ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের পদত্যাগের কথা জানান তিনি। এতে এনসিপির জামায়াত-সংশ্লিষ্টাতাসহ  চার কারণের কথা জানান এই নেত্রী।

তবে একাধিক নেতা-নেত্রী দল ছেড়ে চলে গেলেও এই সময়ে বিভিন্ন দল ও সমাজের নানা অঙ্গনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক যুগ্ম সদস্য সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এনসিপির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তবে বিভিন্ন মতাদর্শের লোকজন একসঙ্গে হওয়ায় এক ধরনের মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নেতৃত্বের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির থেকে আসায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কারণ তাদের প্রতি কিছুটা আপত্তি আছে উদারপন্থী অংশটির। আবার দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়েও ভেতরে-ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি আছে। জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ট্যাগিং থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না বলে মনে করেন তিনি।

যদিও এনসিপির আরেকটি অংশ মনে করে, নতুন দল হিসেবে নিজেদেরকে সংসদ ও রাজপথে প্রাসঙ্গিক করতে তাদেরকে রাজনৈতিক ঐক্য করতে হয়েছে। এসব কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, ভেতরে-ভেতরে ভিন্ন কোনও ‘খেলা’ হচ্ছে না তো?

পৌনে দুই বছরে পদত্যাগ-বহিষ্কারের যত ঘটনা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর বাইরেও ডান-বাম থেকে আসা বেশ কিছু নেতা-নেত্রী দলটিতে যুক্ত হন। চব্বিশের জুলাইয়ে মাঠে থাকা তরুণদের বড় একটি অংশ এনসিপিতে যুক্ত হওয়ায় এক ধরনের নতুন মেরুকরণের আভাস মিলে দলটিতে।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নেতাকর্মী সরাসরি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে দল থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। মূলত ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতের সঙ্গে এক প্ল্যাটফর্মে থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়াতেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

তখন এ বিষয়ে কোনও কোনও নেতা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছিলেন, মতাদর্শগত কারণে এনসিপির সঙ্গে থাকতে চান না তারা। নির্বাচনের আগে থেকে শুরু হওয়া পদত্যাগের ধারাবাহিতা এখনও অব্যাহত আছে।

সর্বশেষ ৫ নভেম্বর  শীর্ষ নেত্রী সামান্তা শারমিন পদত্যাগ করেন আদর্শগত কারণ দেখিয়ে।

ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনও ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে পদত্যাগ করেন— যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা ডা. তাজনূভা জাবীন, ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ, হাসান আলী, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল, দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম প্রধান সংগঠক ইমান সৈয়দ, কৃষিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক  আজাদ খান ভাসানী।

আর নির্বাচনের পর গত ১৮ মে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম। যদিও এনসিপির দাবি, তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অপরদিকে গত ১৫ মে চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার দেড় ঘণ্টার মাথায় সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে চার শীর্ষ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ এনে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। এর পরদিন ১৬ মে সকালে আরও ১৮ জনসহ মোট ২২ জন একই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পদত্যাগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার পৌনে দুই বছরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করেছে এনসিপি।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসীর মাহমুদকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ মে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ  ও  গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর এলাহী কাশ্মিরকে বহিষ্কার করেছে দলটি। এর বাইরেও জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে বহিষ্কার হন বেশ কয়েক নেতা।

আর  উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত ৮ জুলাই বহিষ্কার করা হয় গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা  আতাউল্লাহ শাহকে।

সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার হন মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া ও জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদ।

অস্থিরতার মাঝেও যুক্ত হয়েছেন যারা

নানা সময়ে পদত্যাগ ও বহিষ্কারে অস্থিরতার মাঝেই এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন জুলাইয়ে অবদান রাখা বেশ কিছু পরিচিত মুখ। এর মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মের ৪৭ জন নেতা। এর মধ্যে জুনায়েদ ও রিফাত ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন।

একই দিন যোগদান করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সভাপতি রিফাত রশীদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক এবং  আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শেহরীন সুলতানা ইরা।

এরপর ২৪ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।

সর্বশেষ ৫ নভেম্বর দলটিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা আফরোজ। এনসিপির সূত্র জানায়,  ওই নেত্রী জামায়াতের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর বাইরেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলটিতে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, কাউন্সিল কবে?

এনসিপির দুই বছর আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে এর আগেই গত ২৩ অক্টোবর ১৯৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে বহাল আছেন আখতার হোসেন। কেন্দ্রীয় কাউন্সিল বা নির্বাচিত কমিটি কবে গঠন হবে, তা এখনও নিশ্চিত করেনি দলটি। তবে আগামী বছরের যেকোনও সময় কাউন্সিল হতে পারে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

১৬ সদস্যের রাজনৈতিক পর্ষদে আহ্বায়ক-সদস্য সচিব ছাড়াও আছেন—  নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিক মুজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সামান্তা শারমিন (সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন), মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আবদুল হক, মাহবুব আলম, মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল ও এ কে ফ্লোরাসহ আরও কয়েকজন। যুগ্ম সদস্য সচিবের তালিকায় রয়েছেন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এসএম সাইফ মুস্তাফিজ, মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক ও মো. আতাউল্লাহ।

এছাড়া গঠন হয়েছে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় নারী শক্তি, জাতীয় ছাত্র শক্তি, জাতীয় যুবশক্তি, ন্যাশনাল চিকিৎসক এলায়েন্স, ন্যাশনাল  স্পোর্টস এলায়েন্স ও ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সসহ একাধিক সহযোগী সংগঠনের কমিটি দেওয়া হয়েছে।

কাউন্সিল ও নির্বাচিত কমিটি কবে হবে জানতে চাইলে দলের মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সময়ের চাহিদার আলোকেই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।’’

বিশেষ করে সর্ব সাধারণের বুঝবার আলোকেই কিছু সম্পাদকীয় পদে রদবদল আনা হয়েছে।’’ তিনি জানান, আগামী বছরের যেকোনও সময় কাউন্সিল ও নির্বাচিত কমিটি হবে।

দলটির ভেতরে কী ঘটছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকজন থাকায় কিছু বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একটি পক্ষ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ডানপন্থাকে প্রাধান্য দিতে চায়। আর অপর অংশটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে চায়। তাই জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্যকে মানতে পারছেন না তারা। রাজনৈতিক পর্ষদে ডানপন্থার আধিক্য থাকায়, উদারপন্থি পক্ষটির অনেক মতামতই গুরুত্ব পায় না। বিশেষ করে নতুন বন্দোবস্তের কথা বলা হলেও বাস্তবে গতানুগতিক নিয়ম অনুসরণ করায় অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছাড়ছেন।

যদিও এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ এমপি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘এনসিপি একটি ‘রাজনৈতিক ট্রেন’। এতে অনেকেই যোগদান করছেন। আবার মতবিরোধ হলে যে কেউই চলে যেতে পারেন। কারণ এটি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।’’

তার দাবি, ‘‘যে যা-ই বলুক, প্রতিদিনই এনসিপি সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন অনেকে আসছেন। আর জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য হলেও আমাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্রের আলোকেই কর্মসূচি পরিচালনা করি।’’

অতীতে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপিও জোট করেছে। তখন কারও সমস্যা হয়নি। এনসিপিতে কোনও সংকট নেই। দল ছেড়ে চলে যাওয়া যার যার গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি যদি ক্যারিশমেটিক কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে তো পদত্যাগের পরপরই তার সমর্থনে আরও অনেক নেতাকর্মীই পদত্যাগ করতেন। কিন্তু যেহেতু সেরকম কিছু ঘটেনি, তাই বুঝতে হবে, দল ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিরা তেমন প্রভাব বিস্তারকারী ছিলেন না।’’

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
আইনশৃঙ্খলায় নজর না দিয়ে বিরোধীদলের চরিত্র হননে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: জামায়াত
আ.লীগকে ফিরিয়ে আনার মাশুল বাবার মতো যেন প্রধানমন্ত্রীকে দিতে না হয়: নাহিদ
৭ নভেম্বর আলোচনা সভা করবে এনসিপি
সর্বশেষ খবর
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
সীমান্তে গুলি, আহত বাংলাদেশি যুবককে নিয়ে গেলো বিএসএফ
সীমান্তে গুলি, আহত বাংলাদেশি যুবককে নিয়ে গেলো বিএসএফ
রাজধানীতে হঠাৎ থানার সাম‌নে দুই কক‌টেল বি‌স্ফোরণ 
রাজধানীতে হঠাৎ থানার সাম‌নে দুই কক‌টেল বি‌স্ফোরণ 
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির শোভাযাত্রা, নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির শোভাযাত্রা, নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় সংসার চলে যাদের, তাদের জন্য সুখবর নাকি দুঃসংবাদ?
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় সংসার চলে যাদের, তাদের জন্য সুখবর নাকি দুঃসংবাদ?
প্রথমদিন সেন্টমার্টিনে ৮৩৭ পর্যটক, যেতে খরচ লাগে কত
প্রথমদিন সেন্টমার্টিনে ৮৩৭ পর্যটক, যেতে খরচ লাগে কত
গাজীপুর সাফারি পার্কে জন্ম নিয়েছে নীলগাইয়ের চার শাবক
গাজীপুর সাফারি পার্কে জন্ম নিয়েছে নীলগাইয়ের চার শাবক
প্রতিদ্বন্দ্বী নাকি সহকর্মী, একসঙ্গে কয়টি সিনেমা করেছেন মৌসুমী-শাবনূর
প্রতিদ্বন্দ্বী নাকি সহকর্মী, একসঙ্গে কয়টি সিনেমা করেছেন মৌসুমী-শাবনূর
কেন ভারতের এই গ্রামটিকে বলা হয় ‘মিলিয়নিয়ার ভিলেজ’
কেন ভারতের এই গ্রামটিকে বলা হয় ‘মিলিয়নিয়ার ভিলেজ’