উল্লেখ্য, ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাসদ সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এর আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গত ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইসি গঠনের লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করে জাতীয় পার্টিও।
ওয়ার্কার্স পার্টির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব দেবে দলটি। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনে অন্তত দু’জন নারী সদস্য রাখার প্রস্তাব জানাবে। দলটির প্রস্তাবে আরও থাকবে নির্বাচনের সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট যেসব মন্ত্রণালয় রয়েছে, সব মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার পরামর্শ দেবে। সব মিলিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে ৮ দফা প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে সংলাপে অংশ নিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মঙ্গলবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ বিকেলে বঙ্গভবনে যাবে। বিকাল ৪টায় দরবার হলে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই সংলাপে অংশ নেবে। বৈঠকে আরও অংশ নেবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মল্লিক, নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমদ বকুল, হাজেরা সুলতানা, ইকবাল কবির জাহিদ, কামরুল আহসান ও অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জন্যে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নিতে প্রস্তাব করব আমরা। একইসঙ্গে জরুরি সংসদ অধিবেশন ডেকে গৃহীত আইন পাস করার জন্যও রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেব।’ তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘সার্চ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবও দেবে ওয়ার্কার্স পার্টি।’’
বিমল বিশ্বাস বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোও যেন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে, সেই প্রস্তাব দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে উত্তম উপায় যা রয়েছে, ওয়ার্কার্স পার্টি সেই প্রস্তাবই রাষ্ট্রপতিকে দেবে।’
দলের আরেক পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে আইন প্রণয়নের ওপর জোর দেবে ওয়ার্কার্স পার্টি।’ তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় গুরুত্ব দেওয়া হবে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠনের ওপর। এছাড়া নির্বাচন কমিশনে অন্তত দুই জন নারী সদস্য রাখারও প্রস্তাব দেব আমরা।’
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিএনপিসহ ৫টি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে আলোচনার জন্য বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর ২১ ডিসেম্বর ওয়ার্কার্স পাটিসহ ছয়টি দলকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সংলাপ শুরু হয় ১৮ ডিসেম্বর। ২০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি, ২১ ডিসেম্বর এলডিপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) (ইনু) সঙ্গে আলোচনায় সঙ্গে সংলাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ২৭ ডিসেম্বর বিকালে ওয়ার্কার্স পার্টি, ২৯ ডিসেম্বর বিএনএফ ও ইসলামী ঐক্যজোট, ২ জানুয়ারি জেপি (মঞ্জু) এবং ৩ জানুয়ারি তরিকত ফেডারেশন ও বিজেপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বঙ্গভবন থেকে।
আরও পড়ুন: ইসি গঠনে আইন প্রণয়নসহ ৭ দফা প্রস্তাব জাসদ ইনুর
/এমএনএইচ/