শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইতিহাস বিকৃতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবর থেকে বলতেছেন, থামো মিথ্যা কথা বলো না। আজ দেশের ইতিহাস বিকৃতি হচ্ছে। যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন তারা আজ মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন। অনেকে যুদ্ধের সময় মাঠে যাননি, অস্ত্র হাতে তোলা তো দূরের কথা অস্ত্র-বুলেট চোখেও দেখেননি তারা আজ মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার একাকার হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এ অন্যায় সহ্য করতেন না, লজ্জা পেতেন।’
তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ হঠাৎ করেই বঙ্গবন্ধুর মুখ দিয়ে আসেনি। ১০ লাখ লোকের সমাবেশ হঠাৎ করেই হয়নি। সারা দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে নিয়ে আসতে হয়েছে। ১, ২ ও ৩ মার্চের পরে ৭ মার্চের প্রয়োজন হলো কেন? এই তিনটি মার্চ যদি না হতো তাহলে আদৌ ৭ মার্চের প্রয়োজন হতো কিনা?’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই কোটির জন্য একজনকে জেলে দেন, আর দুই লাখ কোটি টাকার কোনও বিচার হয় না। আমরা দুর্নীতির পক্ষে না। আমরা দুর্নীতির বিচার চাই। কিন্তু দুর্নীতির দায়ে যদি আমি আ স ম আবদুর রবের বিচার হয়, আমার বিপক্ষের ব্যক্তিরও বিচার হতে হবে।’
জেএসডি’র এই নেতা বলেন, ‘সারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। অন্যায়, জুলুম, চুরি, ডাকাতি, গুম, খুন, শিশু নির্যাতন এসব কী? এর নাম যদি উন্নয়ন হয় আল্লাহ’র ওয়াস্তে মাফ চাই। আমাদের এমন উন্নয়নের দরকার নেই। আমরা এমন উন্নয়ন চাই না।’
রব বলেন, দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুশাসনের বিরুদ্ধে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। সবাইকে নির্বাচনে গিয়ে এই সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় যেতে হবে। এককভাবে আন্দোলন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো যায় না। অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করতে হবে।
সংগঠনের নেতা শামসুদ্দীন সাচ্চুর সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন হোসেন, দফতর সম্পাদক মাসুম সেন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল কবির, রাসেল মাইনুল, রেহানা পারভীন প্রমুখ বক্তবা দেন।