ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তরুণদের বোঝাতে হবে যে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। জনগণের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ক্ষমতা কাদের হাতে চলে যায়, তা দেখার জন্য সবাইকে সতর্ক করা দরকার। শুধু ভোট দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়, প্রক্রিয়াটিকে পাহারা দেওয়া, কিছু লোক বসে থাকবে কিছু সময়, কে যাচ্ছে, তা দেখবে, সবসময় স্বৈরাচার যেটা করে পোলিং এজেন্টদের কিনে নেয়। আবার ভয় দেখিয়ে বলে যে, এখানে আসলে তোমার বিপদ হবে। ভয় দেখিয়ে অথবা কিছু দিয়ে পোলিং এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া হয়। তাই তরুণদের এই জিনিসটা বোঝাতে হয়, কেন ভোটিং প্রক্রিয়াকে পাহারা দিতে হয়।’
কেউ যদি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন না চায়, তার জায়গা পাবনায় মন্তব্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন যে চায় না, সে একটু নিজের পরিচয়টা দিক। আমার তো মনে হয়, পাবনার হেমায়েতপুর ছাড়া তার আর কোনও থাকার জায়গা থাকবে না। আমরা বড় বড় স্বৈরাচার সরকার দেখেছি, তাদের যে কী পরিণতি হয়েছে, আপনারা সবাই জানেন।’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা অনেকেকেই দেখেছি বলতে, ‘আমি থাকবো’, ‘আছি’ , ‘চিরস্থায়ী হয়ে যাবো’ । দেখেছি তারা কীভাবে এগুলোকে বাস্তবায়িত করার জন্য রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করেছেন। বিভিন্ন ধরনের দল গঠন করেছেন, তাদের পরিণতি কী হয়েছে। জনগণ যদি ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে সরকারকে স্মরণীয় শিক্ষা দিয়ে ছাড়বে। আমার বিশ্বাস জনগণ খুবই সচেতন। তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সব বিষয়ে সচেতন থাকবে। কড়া নজর রাখবে। জনগণের হাত থেকে কোনও স্বৈরাচারই রেহাই পায়নি।’
অনু্ষ্ঠানে জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট-গণফ্রন্ট মিলে যে ঐক্য হয়েছে, আমরা এটাকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে নিয়ে যাবো। স্বৈরাচার সরকার ও স্বাধীনতাবিরোধীরা ছাড়া বাংলাদেশের সবাইকে আহ্বান জানাবো, আমাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ইভিএম মেশিন, যন্ত্রপাতির জন্য আগেই এলসি খুলে বসে আছেন। একনেকের অনুমোদন নেই, কোনও মন্ত্রিসভার বৈঠক নেই; কী করে এলসি খুললেন? কীভাবে অনুমোদন দিলেন? এটা ফোরটুয়েন্টির ব্যাপার। এরা সব লুটেরা, লাখ-লাখ, কোটি-কোটি টাকা লুট করেছে। এটা একটা লুটের প্রকল্প। একইসঙ্গে টাকাও লুট করবে, ভোটও লুট করবে।’