২০১৫ সালের ২৯ আগস্ট কাজী জাফর মারা যান। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস তার বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘সে আমার বিশেষ বন্ধু ছিল, ক্লাস ফ্রেন্ড ছিল, আমরা একই ব্যাচের ছাত্র। আমি এসএম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলাম, কাজী জাফরও এটার ছাত্র ছিল। সে প্রায় আসতো, রাজনৈতিক কারণেই আসতো। তখন দেখা-সাক্ষাৎ হতো, আলাপ হতো, হলেই জানাশুনা শুরু হয়। বন্ধুত্ব হলেও বন্ধুত্ব একটা বিশেষ বন্ধুত্বে পরিণত হয়।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমি ছাত্র রাজনীতি করিনি, কাজেই সেই দিক থেকে তার সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার কারণ ছিল না।’
আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে ইউনূস বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে একটা পিআইয়ের ফ্লাইট ছিল, ঢাকায় আসার মাঝখানে কুমিল্লায় থামতো। একটা ফ্লাইটে আমি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসছি, কুমিল্লায় থামলো। যারা কুমিল্লার যাত্রী তারা নেমেছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকার যাত্রী উঠলো। তাদের মধ্যে লক্ষ করলাম একজন দাড়ি-গোঁফওয়ালা চাদর গায়ে আমার দিকে তাকাতে তাকাতে ঢুকলো। আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না কেন তাকালো? যেই আমার পাশে আসলো-মাথা নিচু করে বললো, আমি কিন্তু আন্ডারগ্রাউন্ডে আছি, আপনি কিছু বলবেন না। আমি এই মাত্র চিনলাম, আগে তো বুঝিনি…।–এই হচ্ছে কাজী জাফর। তখন বুঝলাম যে, আন্ডারগ্রাউন্ডটা কি জিনিস।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাফর ভাই অসাধারণ নেতা ছিলেন, তার একটা মেমোরি ছিল, একটা অসাধারণ ক্ষমতা ছিল মানুষকে আপন করে নেয়ার এবং নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবার। আমাদের কাছে নায়ক ছিলেন, হিরো ছিলেন। সত্যি উনি একেবারে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকতেন।’
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘জাফর ভাইয়ের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক এটা দীর্ঘকালের একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে শ্রমিক আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তির আন্দোলন, স্বাধীনতার সংগ্রামের আন্দোলন সবক্ষেত্রে আমরা প্রায় একত্রে পথ চলেছি। বলতে পারেন জাফর ভাই এককথায় আমাদের নেতা ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কটা এতোই অবিচ্ছেদ্য ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন আমরা ভারতে আশ্রয় নিয়ে এই লড়াইয়ে ক্ষেত্রে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি সেসময়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুজাফফর আহমদের সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কমরেড মুজাফফর আহমদ আমাকে দেখে বললেন যে, জাফর-মেনন আপনারা এসেছেন। আমি বললাম জি না, আমি মেনন, কাজী জাফর আরেকজন। উনি বলেন, ওহ জাফর-মেনন একটি নাম নয়?’
তিনি বলেন, ‘আমরা একসাথে পথ চলেছি। ছাত্র আন্দোলন বিশেষ করে শিক্ষা আন্দোলনে জাফর ভাইয়ের যে অতুলনীয় নেতৃত্ব সেই নেতৃত্ব এটা সবাই স্মরণ রাখবে। এই শিক্ষা আন্দোলনে প্রতিটি ঘটনায় তার বক্তৃতা মানুষকে এতোই মোহগ্রস্ত করতো, এমন উদ্বেলিত করতো যেরকম আর দেখি নাই।’
এছাড়া কাজী জাফরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্মরণ সভা হয়। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার একাংশের প্রধান খোন্দকার লুতফুর রহমান, জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিংকনসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার।