‘সরকার-প্রশাসনের সঙ্গে আলেমদের সংঘাতে ঠেলে দিচ্ছে উগ্রপন্থী একটি চক্র’

মামুনুল হকবাংলাদেশে রাষ্ট্র, প্রশাসন, সরকার এবং আলেম সমাজকে সংঘাতে লিপ্ত করতে তৃতীয় একটি উগ্রপন্থী বাংলাদেশ ও ইসলামবিরোধী চক্র সূক্ষ্ম তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘এই চক্রটি লক্ষ্য করছে আলেম সমাজ তাদের অব্যাহত চেষ্টার মাধ্যমে সমাজে, জাতির কাছে, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থান তৃতীয় অপশক্তির সহ্য হচ্ছে না।’
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর মুহাম্মদপুরে ইসলামী বক্তাদের একটি সংগঠনের পরামর্শ ও দিক নির্দেশনামূলক সভায় মামুনুল হক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের স্থানীয় কর্মকর্তারাও বক্তব্য রাখেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘আমি খুবই যুক্তিপূর্ণ ভাষায় ভাস্কর্য ইস্যুতে কথা বলেছি। ভাস্কর্য ইস্যুতে একটি অক্ষরও সংবিধান, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেনি। আমার বিরুদ্ধে অপরাজেয় বাংলায় প্রথম উসকানি দিয়েছিল কারা? তারাই ইসলামবিরোধী, বাংলাদেশবিরোধী। তারা স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে বাংলাদেশ অনিবার্যকে সংঘাতের দিতে ঠেলে দিতে চায়।’
প্রশাসনকে সতর্ক করতে চাই উল্লেখ করে মামুন বলেন, ‘এই চক্রটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। আল্লামা বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মদিনা সনদ নিয়ে বক্তব্যের কারণে দেশদ্রোহিতার মামলা করে চক্রটি। মদিনা সনদ নিয়ে কথা বলা যদি রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়, তাহলে মদিনা সনদের কথা প্রথম এই দেশে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেখা যাবে কয়েকদিন পর চক্রটি শেখ হাসিনার নামেও মামলা করবে।’
ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সভায় অভিযোগ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘তোমরাও প্রস্তুত হও। যারা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেছে, তাদের আগামী দিনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার মুখোমুখি হতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হঠকারিতার পথে যাবো না। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। তোমরা বাংলাদেশবিরোধী মঞ্চ।’
আলেম-উলামাদের বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান মামুনুল হক।